মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

দুই প্রাণ গেল,প্রশ্ন থেকে গেল: কিশোরগঞ্জের সড়ক কি তরুণদের জন্য নিরাপদ?

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৫-০৫-০৮ ২১:৪৭:০০

পাকুন্দিয়ার বরাটিয়া মোড়ে বৃহস্পতিবার বিকেলের সড়কটি যেন হঠাৎ করেই থমকে গেল। মুহূর্তেই থেমে গেল দুই কিশোরের স্বপ্ন-একজন ছিলেন রাজনীতিক পিতার সন্তান, আরেকজন শিক্ষা পরিবারের উত্তরসূরি। শোভন (১৭) ও লাম (১৮)-দুই বন্ধুর মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

দুজনেই একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, জীবনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা দুটি তরুণ মন। অথচ একটি কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা, নিয়ন্ত্রণ হারানো, এবং অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ-সবকিছু মিলে যেন এক চিত্রনাট্য, যার কাহিনি বারবারই দেখা যায় বাংলাদেশের সড়কে।

সড়ক দুর্ঘটনা নাকি সমাজের নীরব হত্যাকাণ্ড?
প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে ঘটে এমন ঘটনা। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এই দুর্ঘটনাগুলো কি কেবল "দুর্ঘটনা"? নাকি এগুলো পরিকল্পনার অভাব, অব্যবস্থাপনা, এবং রাষ্ট্রীয় গাফিলতির ফল?
বরাটিয়া এলাকায় দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কুকুরের সঙ্গে ধাক্কা এবং দ্রুতগতিকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু কেন জনবহুল সড়কে পশু নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই? কেন তরুণদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে রাস্তার গঠন, যানবাহনের গতি ও জনসচেতনতা যথেষ্ট নয়?

পরিবার ভাঙে, কিন্তু রাষ্ট্র নীরব
একদিকে একজন বিএনপি নেতার পুত্র, অন্যদিকে একজন প্রধান শিক্ষকের ছেলে-এই দুই পরিবার শুধু সন্তান হারায়নি, ভবিষ্যত হারিয়েছে। এই পরিবারগুলো বিচার চায় না, তারা নিরাপত্তা চায়। কারণ আজ যাঁদের গেছে, কাল তাঁদের জায়গায় অন্য কেউ-আমরা, আপনি, কিংবা আমাদের সন্তানরাই থাকতে পারি।

কিশোরগঞ্জ কি নিরাপদ শহর?
কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশে গত এক বছরে প্রায় ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন (স্থানীয় পরিসংখ্যান, অপ্রকাশিত)। তার বড় একটি অংশ স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর-তরুণ। অথচ এই শহরের প্রধান সড়কগুলোতে নেই যথাযথ সিগন্যাল ব্যবস্থা, নেই ফুটপাত, নেই কুকুর নিয়ন্ত্রণ বা ট্রাফিক ক্যামেরা।

একজন চিকিৎসক, একটি বার্তা
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নূর-এ-আলম খান জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন। কিন্তু চিকিৎসার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো-এদের যাতে হাসপাতালে আসতেই না হয়, সেই ব্যবস্থা কোথায়?

কী করা যায়?
১. স্কুল-কলেজ ঘিরে ট্রাফিক জোন ঘোষণা করা হোক
২. প্রতি উপজেলায় কুকুর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
৩. তরুণদের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার নীতিমালা প্রণয়ন
4. স্থানীয় সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো

শেষ কথা:
এই মৃত্যু দুই তরুণের, কিন্তু দায় পুরো সমাজের। যেসব রাস্তা আমরা তৈরি করি, সেগুলোর নিরাপত্তা না থাকলে, কেবল মানুষ নয়-সামাজিক আস্থাও ভেঙে পড়ে।
আজ শোভন-লাম নেই, কাল যেন আর কেউ না থাকে এই তালিকায়-এটাই হওয়া উচিত আমাদের সবার অঙ্গীকার।

লেখক-কলামিস্ট,মহাসচিব-নিরাপদ সড়ক চাই।


এ জাতীয় আরো খবর