চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রুক্ষ বরেন্দ্রাঞ্চলে ক্রমাগত নেমে যাওয়া ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা ও বৃদ্ধি করতে ‘ম্যনেজড একুইফার রিচার্জ’ বা এমএআর নামক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পাকা স্থাপনা বা বাড়ির ছাদে এবং টিনের ছাউনিতে পড়া বৃষ্টির পানি ফিলট্রেশন (ময়লা মাটি পৃথক করা) করে পাইপলাইনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বোরহোলে (গর্ত) ফেলা হবে। ফলে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে যেখানে-সেখানে না গিয়ে সরাসরি বোরহোলে পড়বে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রিচার্জ বা পূণর্ভরণ হবে। খরাপ্রবণ বরেন্দ্রাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘এক্সটেনডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইসিসিসিপি)- ড্রাউট প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রয়াস।
রোববার (৪ মে) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদ ভবন চত্বরে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো:আব্দুস সামাদ। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছমিনা খাতুন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার জাহিদ হাসান, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম লূৎফল হাসান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রয়াস প্রধান নির্বাহী হাসিব হোসেন বলেন, ২০২৪-২৪ অর্থবছরে সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০টি এমমআর স্থাপন করার কাজ চলছে। প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড-জিসিপি ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল বরেন্দ্রাঞ্চলে খরা প্রতিরোধে বৃষ্টির পানি ভূ-গর্ভে সঠিকভাবে সংরক্ষণের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর বাড়ানো। প্রকল্পে এ্্এমআর স্থাপনের পাশাপাশি খাল ও পুকুর খননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে খরা সহনশীল ফসল ও ফল চাষে পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্যকর অবদান রাখ হচ্ছে। প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমযোপযোগী ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথিবৃন্দ।
উল্লেখ্য,বরেন্দ্রাঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন ভয়াবহভাবে নামতে থাকায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে জেলা সদরের ঝিলিমসহ নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ধান চাষ নিরুৎসাহিত করে বরেন্দ্রাঞ্চলে সেচের দায়িত্বে থাকা বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর বিএমডিএ’র এক পত্রে ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র এলাকার ০.২৫ কিউসেক ডিসচার্জ থেকে ১.০০ কিউসেক ডিসচার্জ সম্পন্ন গভীর নলকুপের ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশংকাজনকভাবে নেমে যাবার কথা জানিয়ে ওই তিন উপজেলায় বোরো আবাদ নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হয়। ফলে জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি ধান চাষ হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ সূত্র।