বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা তার পোস্টে বলেন, ‘‘নারীরা কোনো ব্যবহারের বস্তু না, যে আপনার গদি সিকিউর করে রান্নাঘরে ফিরে যাবে।’’ এই এক লাইনের মধ্যেই ফুটে উঠেছে নারী সংস্কারকে ঘিরে ‘রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা’র চিত্র।
তিনি আরো বলেন, ‘‘কোন কমিশনের কোন প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য, সেটা নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে,পুরো কমিশন বাতিলের দাবি তোলা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে?"
এ বক্তব্য রাজনৈতিক বাস্তবতার চেয়ে নৈতিক প্রশ্ন বেশি উত্থাপন করছে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি এখনও কাঠামোগত পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ধর্ম বনাম অধিকার,নাকি রাজনৈতিক ‘ফোকাস শিফট’?
হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠন নারী সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ‘ধর্মবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু উমামা প্রশ্ন তোলেন-এই প্রতিক্রিয়া কি বাস্তবিক উদ্বেগ, নাকি একটি স্বার্থনির্ভর ‘ফোকাস শিফট’?
তিনি লেখেন, ‘‘নারীদের কতটুকু অধিকার থাকবে, সেটা নিয়ে তো নারীদের তুলনায় পুরুষদের মাথাব্যথা বেশি।’’ এটা যেন স্পষ্ট আঙুল তোলে পিতৃতান্ত্রিক রাজনীতির অভ্যন্তরীণ সংকটের দিকে।
‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর উত্তরাধিকার ও নারী প্রশ্ন
উমামা ফাতেমা শুধু একজন ছাত্র আন্দোলনকর্মী নন-তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সাংগঠনিক মুখ। সেই অভ্যুত্থানের অন্যতম মাইলফলক ছিল নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে স্বীকৃতি। সেই প্রেক্ষাপটেই তিনি দাবি করেন, ‘‘নারীদের অধিকার বাদ দিয়ে এই দেশে কোনো রাজনীতি মূলধারায় টিকে থাকতে পারবে না।’’
এ মন্তব্য কেবল এক অধিকারকর্মীর অনুভব নয়, বরং রাজনীতির নতুন ম্যাপের ভবিষ্যদ্বাণী।
রাজনীতির নারী-পরীক্ষা: কতদূর এগোবে বাংলাদেশ?
নারী সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবি, জনসভায় নারীবিরোধী বক্তব্য, ইনফ্লুয়েন্সারদের চুপচাপ থাকা-সবকিছু মিলে যেন একটাই প্রশ্ন উঠছে-এটা কি আদৌ সংস্কারের সময়,নাকি রিগ্রেশন বা পশ্চাৎযাত্রার আয়োজন?
উমামা ফাতেমার পোস্টটি এই প্রশ্নগুলোকেই স্পষ্ট করে দেয়। তিনি লিখেছেন, ‘‘স্টেজে গলাবাজি করে,চোখরাঙানি দিয়ে নারীদের প্রান্তিক করা সম্ভব না।’’
নারী সংস্কার কমিশন আজ লিটমাস টেস্ট
সংস্কার মানেই সব প্রস্তাব মানতে হবে-তা নয়। কিন্তু পুরো কমিশন বাতিলের আহ্বান আসলে কী নির্দেশ করে? উমামা ফাতেমার ভাষ্যে উঠে এসেছে এক শঙ্কা-এই প্রতিবাদ নারী নয়, নারীবিদ্বেষকে জায়েজ করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আর এই ভাষ্যের গুরুত্ব ঠিক এখানেই-এটি কেবল একজন তরুণীর বক্তব্য নয়,নতুন প্রজন্মের নারীবান্ধব রাজনীতির হুঁশিয়ারি।