মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল তত্বাবধায়কের উপর চড়াও কনসালটেন্ট,পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৫-০৫-০৩ ১৭:৫৩:০০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ  ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল তত্বাবধায়কের উপর চড়াও হয়ে তাঁকে মারতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক কনসালটেন্টের বিরুদ্ধে। তবে কনসালটেন্টও তত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে  তাঁকে বিভিন্নভাবে অবহেলার অভিযোগ করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,শনিবার (৩মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাাতলের তত্বাবধায়কের অফিস কক্ষে ঘটনাটি ঘটে।  ওই সময় বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং বিভাগের কনসালটেন্ট ডা.আহসান হাবিব উত্তেজিত হয়ে তত্বাবধায়ের  ল্যাপটপ  আছড়ে ভেঙ্গে সেটি দিয়েই তত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজকে মারতে উদ্যত হন। তিনি হাত দিয়ে  তা ঠেকানোর চেষ্টা করলে আঘাতপ্রাপ্ত হন। এ সময় ওই কক্ষে উপস্থিত হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ,সার্জারি কনসালটেন্ট ডা.ইসরাফিল, সহকারী পরিচালক ডা.মোয়াজ্জেমের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়। এ সময় হাসপাতালে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে অবস্থান নেয়।  
এদিকে ঘটনাটি জানার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা.হাবিবুর রহমান দুপুরে রাজশাহী থেকে হাসপাতালে এসে পৌঁছান। তিনি চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বেঠক করেন এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে ডিজি হেলথ ঢাকা থেকে একটি তদন্ত কমিটি করতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
তত্বাবধায়ক মাসুদ পাভেজ অভিযোগ করেন, রোগি দেয়া হচ্ছে না অভিযোগে  অনেকটা আকস্মিকভাবেই এ ঘটনা ঘটান কনসালটেন্ট।  তবে এ অভিযোগ তাঁর পুরোনো।  এর আগে শনিবার সকালেই ওই চিকিৎসকের  রোগি পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভের কথা তিনি জানতে পারেন।  এরপরই তিনি নির্দেশনা দেন,কনসালটেন্ট যত সংখ্যক রোগি দেখতে পারবেন,তাঁকে যেন  সে পরিমান রোগি দেয়া হয়। এরপরও অনাকঙ্খিত ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কনসালটেন্ট আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, পদোন্নতি পাবার পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে খাটো করা হচ্ছে। তাঁর যথোপযুক্ত কক্ষ,মেশিন সরবারাহ করা হয় নি। কাজের পরিবেশ নেই। এমনকি তঁর নামফলকও নেই। দু’বছর থেকে এসব ব্যাপারে অভিযোগ করলেও তত্বাবধায়ক তা আমলে নেন না।  রোগি দেখতে কোন আপত্তি না থাকলেও তাঁকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। শনিবারের ঘটনা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহি:প্রকাশ বলে স্বীকার করেন কনসালটেন্ট আহসান। তিনি আরও বলেন, তিনি তত্বাবধায়ককে মারেন নি। তাঁকেই বরং তত্বাবধায়কের লোক লঠি নিয়ে মারতে উদ্যত হলে একটি কক্ষে লুকিয়ে রক্ষা পান।
আরএমও আব্দুস সামাদ বলেন, তত্বাবধায়কের উপর চড়ায়ের ঘটনা সত্য। এ ব্যাপাওে উর্ধতণ কর্তৃপক্ষের নিদের্শণায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মতিউর রহমান বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা জানালে সেখানে  যেয়ে তত্ববধায়কের সাথে কথা বলেছি। হাসপাতাল কতৃপক্ষ নিজেরাই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন। এ ব্যাপারে লিখিত কোন অভিযোগ পাই নি। 

 


এ জাতীয় আরো খবর