শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

অননুমোদিত হজ নয়, আইন মেনে সৌদি যাওয়ার আহ্বান: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সতর্ক বার্তা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-০২ ১২:৪৩:৪৪

চলতি হজ মৌসুমে অনুমতি ব্যতীত হজে অংশগ্রহণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের সঙ্গে কূটনৈতিক সৌহার্দ্য, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ধর্ম মন্ত্রণালয় বাংলাদেশিদের সতর্ক করে দিয়েছে-ভিজিট ভিসা নিয়ে যেন কেউ হজের পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে না যান।
ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেউ ভিজিট ভিসায় মক্কা বা আশপাশের পবিত্র এলাকাগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটি হবে হজ বিধিমালার লঙ্ঘন। এমনকি ভিজিট ভিসাধারী হজপ্রত্যাশীদের যাতায়াত, আবাসন বা সহায়তা করা থেকেও বিরত থাকতে দেশের নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

সৌদি সরকারের কঠোর আইন: অননুমোদিত হলে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা
এ বছরের হজকে কেন্দ্র করে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ পারমিট ছাড়া কেউ হজ পালনের চেষ্টা করলে ২০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। আর যদি কেউ হজ ছাড়াই ওই অঞ্চলে কাউকে সহায়তা করেন, তার জন্য রয়েছে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা ও যানবাহন বাজেয়াপ্তের বিধান।
বিদেশি নাগরিকরা যদি অনুমতি ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করেন কিংবা নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন, তাহলে শুধু জরিমানাই নয়-তাদের সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করে পরবর্তী ১০ বছর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
এই বিধান কার্যকর থাকবে ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ জুন পর্যন্ত (জিলকদ ১ থেকে জিলহজ ১৪)। এ সময়ের মধ্যে কেবল সরকার অনুমোদিত হজ পারমিটধারীরাই মক্কা ও আশপাশের পবিত্র এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট বার্তা: আইন মানুন, সম্পর্ক রক্ষা করুন
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “হজ শুধু ধর্মীয় কাজ নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের বিষয়। সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক, প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ এই হজ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই না এমন কিছু ঘটুক, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে কেউ হজ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করলে তা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যেও আঘাত।”

‘টিম ওয়ার্ক ছাড়া সম্ভব নয় হজ ব্যবস্থাপনা’
ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক বিষয়টি আরও পরিস্কার করে বলেছেন, “হজ একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় যৌথ দায়িত্ব। সৌদি আরবের নেতৃত্বে পুরো মুসলিম বিশ্বের অংশগ্রহণে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। সেখানে শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা এবং আইন মানা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের হজে যাতে একটি সফল আয়োজন করতে পারে, সেজন্য এখন থেকেই হজযাত্রী, এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। হজের পবিত্রতা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে 'টিম স্পিরিট' নিয়েই কাজ করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, হজ পালন ধর্মীয় দায়িত্ব হলেও, তা পালনে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। বাংলাদেশ সরকার চায়, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় দেশ যেন মর্যাদার সঙ্গে অংশ নেয়, অনিয়ম নয়—নিয়মই হোক আমাদের পাথেয়।


এ জাতীয় আরো খবর