ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় নারীকে নিয়ে কটুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার রাত আটটা থেকে টানা দুই ঘণ্টা ধরে সরাইল সদর ইউনিয়নের মোগলটুলা ও চানমনি পাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাত নামার পর টর্চলাইটের আলোতে দুই পক্ষের লোকজন দা, বল্লম ও লাঠি হাতে রণক্ষেত্র তৈরি করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের একপর্যায়ে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে অন্তত পাঁচটি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, কয়েক মাস আগে মোগলটুলা ও চানমনি পাড়ার মধ্যে আরেকটি সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় চানমনি পাড়ার হেলাল মিয়ার স্ত্রী হালিমা বেগম তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলামকে নিয়ে স্থানীয় একটি রাইসমিলে গেলে সেখানেই ঘটনার সূত্রপাত।
অভিযোগ রয়েছে, মোগলটুলা গ্রামের যুবক তৌহিদ মিয়া হালিমাকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তৌহিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়, যা দ্রুতই বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন ও ওসি মো. রফিকুল হাসান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তাঁরাও সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।
এ সময় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) তপন সরকার।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, এবং সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
সংঘর্ষের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউএনও মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, “আমরা স্থানীয় প্রশাসন হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কথায় কথায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই চর্চা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।”
একটি নারীকে নিয়ে কটুক্তি-এই একটি ঘটনায় দুই গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আহত হওয়া আমাদের স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা ও সহনশীলতার সংকটকেই তুলে ধরে।