বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

শুভ জন্মদিন অভিনেত্রি রোজিনা

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৪-২০ ১৩:৩২:১২

তাঁর পুরো নাম রওশন আরা রেনু
এদেশের বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় একজন অভিনয় শিল্পী। রূপালি ভুবনে এসে তাঁর নাম হয় রোজিনা। চলচ্চিত্রে আসার আগে ঢাকায় মঞ্চনাটক করতেন।
রোজিনা সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 
অনেক কষ্ট, ত্যাগ, পরিশ্রম আর হাজার পাওয়ার লাইটের আলোয় চামড়া পুড়িয়ে, সহশিল্পীদের প্রতি সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে, নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিষ্ঠাবান থেকে তবেই তিনি হতে পেরেছেন আজকের রোজিনা। নাগাল পেয়েছেন সাফল্যের শীর্ষ সিঁড়ির।  
রোজিনার পথ চলার শুরুটা ছিল মায়া বড়ির বিজ্ঞাপন দিয়ে।
পরবর্তীকালে ১৯৭৬ সালে কালিদাসের 'জানোয়ার' ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করে জীবনের প্রথম রোজগার হয় দশ টাকা।  
একক নায়িকা হিসেবে অভিনয় করার কথা ছিল 'সাগর ভাসা' চলচ্চিত্রে। সবকিছু চূড়ান্তও হয়েছিল। কিন্তু শুটিংয়ে গিয়ে দেখেন প্রভাবশালী ও ডাকসাইটে আরেক নায়িকা। অপমানে ও আত্মসম্মানে ব্যাঘাত ঘটায় চলে আসেন সেখান থেকে। নোংরা ফিল্ম পলিটিক্সের কারণে আর অভিনয় করা হয়নি সে চলচ্চিত্রে।    
পরবর্তিতে ১৯৭৭ সালে এফ কবীর চৌধুরীর ‘রাজমহল’ চলচ্চিত্রে চিত্রনায়ক ওয়াসিমের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পেয়ে যান তিনি। 
‘রাজমহল’ ছবিটি সুপার ডুপার হিট হওয়ায় তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরপর অসংখ্য ছবিতে জনপ্রিয় নায়কদের বিপরীতে অভিনয় করে পান জনপ্রিয়তা, সেই সঙ্গে অর্জন করেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
এদিকে মায়ের অনেকটা কড়া শাসনে কেটেছে রোজিনার ছোটবেলা। তবে তাঁর বাবা একটু নরম স্বভাবের ছিলেন বলে দুষ্টুমি করলেও ছাড় পেয়ে যেতেন।
ছোটবেলায় কবরী আর শাবানার ভীষণ ভক্ত ছিলেন তিনি। মনের অজান্তে সে সময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কবরীর মতো হাসার চেষ্টা করতেন।
জনতা এক্সপ্রেস, চন্দনা ডাকু, অবিচার, হুর এ আরব, চোখের মণি, সুখের সংসার, সাহেব, তাসের ঘর, হাসু আমার হাসু, হিসাব চাই, বন্ধু আমার, কসাই, জীবনধারা, সুলতানা ডাকু, মানসী, দোলনা, দিনকাল, রসের বাইদানী, জীবনধারা, রূপবান, আলোমতি প্রেমকুমার, হামসে হায় জামানাসহ তিনশ’র মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রোজিনা। 
পরিচালক আমজাদ হোসেনের 'কসাই' ছবিটি তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ছবিটিতে নিষিদ্ধ পল্লীর এক মেয়ের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন তিনি।   
'অবিচার' ছবিতে মিঠুনের বিপরীতে অভিনয় করে বিখ্যাত বনে যান তিনি গোটা উপমহাদেশে। 
ইমপ্রেস টেলিফিল্মের 'রাক্ষুসী' টেলিফিল্মে তাঁর অভিনয় সকল মহলের প্রশংসা অর্জন করে। ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন নায়ক ফেরদৌস। 
রোজিনা সরকারি অনুদানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ফিরে দেখা' চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে পরিচালনায় নাম লিখিয়েছেন। 
জুটি বেঁধে একে একে তিনি অভিনয় করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক, আলমগীর, সোহেল রানা, ওয়াসিম, ফারুকের মতো বলিষ্ঠ তারকাদের সাথে। 
রোজিনা অসংখ্য ভক্ত অনুরাগীদের মন জয় করে নিয়েছেন তাঁর স্বাভাবিক ও সাবলীল অভিনয় দিয়ে। এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে তিনি যথেষ্ট দিয়েছেন পেয়েছেনও বিস্তর।
১৯৮০ সালে 'কসাই' ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।
এছাড়াও ১৯৮৬ সালে 'সুরুজ মিয়া' ও ১৯৮৮ সালে 'জীবন ধারা' চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রির পুরস্কার। 'বাচসাস' পুরস্কারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। 
জন্ম ২০ এপ্রিল ১৯৫৫ সালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুরে। গোয়ালন্দ তাঁর মাতুলালয়। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের মধুর দিনগুলো। 
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বসবাস করছেন লন্ডনে। মাঝে মধ্যে দেশে আসেন জন্মভূমির টানে।
তবে আলোছায়ার ভুবনে থেকেও তিনি ভুলে যাননি মাটির পৃথিবীকে। বিভিন্ন জনহিতকর কাজ ও সমাজসেবায় সম্পৃক্ত রেখেছেন নিজেকে। 
সম্প্রতি প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা খরচ করে তিনি মায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রার্থনার জন্য। 
চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রাখায় ২০২৩ সালে নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কালচারাল ফেডারেশন ও টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি অব বাংলাদেশ (ট্রাব) বরেণ্য অভিনেত্রি রোজিনাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেছে।
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে সমাজহিতৈষী ও হৃদয়বান একজন রোজিনার জন্য রইল শুভ কামনা। 
 


এ জাতীয় আরো খবর