বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

উপলক্ষ পুঁটি মাছ, এক মুহূর্তের রাগ-জমজ সন্তানদের মা এখন লাশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৪-১৯ ২২:২৬:১০

 কুমিল্লা, ১৯ এপ্রিল
পুঁটি মাছ। বাজার থেকে এনে স্ত্রীর সামনে রাখা মাত্রই তা ছুড়ে মারলেন স্ত্রী-“আমি কাটতে পারব না!”
এক মুহূর্তের উত্তেজনা,আর তারপর-চিরতরে থেমে গেল এক নারীর প্রাণ।
এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে কুমিল্লার মুরাদনগরের উত্তর ত্রিশ গ্রামে,যেখানে স্বামীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ বছর বয়সী মৌসুমী আক্তার। হত্যার পর স্বামী নিজেই থানায় গিয়ে জানিয়ে দেন-“আমি আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছি।”

ভাড়াবাড়িতে বসবাস, ভিতরে কলহ
নবীনগরের সাহাপুর গ্রামের ছেলে বাছির উদ্দিন (৩৫) পেশায় একজন মেডিসিন কোম্পানির প্রতিনিধি। উত্তর ত্রিশ গ্রামে একটি বাড়িতে আড়াই বছর ধরে স্ত্রী ও জমজ সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
নিহত মৌসুমী আক্তার দেবিদ্বারের মেয়ে। নয় বছর আগে বিয়ের বন্ধনে জড়ান বাছির-মৌসুমী। সংসারে ৪ বছর বয়সী জমজ এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পুঁটি মাছ থেকেই শুরু
শনিবার দুপুরে বাজার থেকে পুঁটি মাছ কিনে ঘরে ফেরেন বাছির। মৌসুমী মাছ কাটতে অস্বীকৃতি জানান এবং সেই মাছ ছুড়ে মারেন স্বামীর দিকে। উত্তেজনায় নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে বাছির গলাটিপে হত্যা করেন স্ত্রীকে।
পরে নিজেই থানায় গিয়ে ঘটনার কথা বলেন। ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, “প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে দেখি, ঘটনা সত্যি। লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে, মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

'ভালো মানুষ' কীভাবে খুনি?
বাড়ির মালিক আলাল মিয়া বলেন, “বাছির আমাদের চোখে ভালো মানুষ ছিল। কোনোদিন তাদের মধ্যে উচ্চ স্বরে ঝগড়া পর্যন্ত হয়নি। এটা কীভাবে হলো বুঝে উঠতে পারছি না। হয়তো শয়তান মুহূর্তে ভর করেছে।”

শিশুদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত
এই ঘটনার সবচেয়ে নির্মম দিক হয়তো দুটি শিশুর ভাগ্যে এখন থেকে যে কালো অধ্যায় শুরু হলো। মা নেই, বাবা পুলিশের হেফাজতে। জীবনভর তারা বহন করবে একটি ভুল মুহূর্তের ফল।

প্রশ্ন অনেক, উত্তর অজানা
এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়-পারিবারিক দ্বন্দ্ব,ক্ষণিকের রাগ কিংবা মানসিক চাপ কীভাবে একটি পরিবার ধ্বংস করে দিতে পারে।
সামান্য পুঁটি মাছ, কিছু অপমান, আর এক মুহূর্তের অন্ধত্ব-যেখানে শেষ হলো এক নারীর জীবন, আর শুরু হলো চারজন মানুষের শোকগাথা।


এ জাতীয় আরো খবর