সুচিত্রা সেনের 'আঁধি' যখন রিলিজ করে তখন আমার আট বছর বয়স। সিনেমার নায়িকাদের নিয়ে চর্চা করার বয়সই হয়নি তখন আমার। কিন্তু ওই ছবিটা নিয়ে একটা শোরগোল হয়েছিল বলে মনে পড়ে। পরে বড় হয়ে যখন 'আঁধি'র গানগুলো দেখেছি আর শুনেছি, মনে হয়েছে এগুলো চিরদিনের। কোনওদিনই হারানোর নয়। আমার জেনারেশন বাদ দিন, যে কোনও জেনারেশনই 'আঁধি'র গান শুনবে। সেই গানকে যখন পর্দায় দেখি, লক্ষ করলাম কতটা গ্রেসফুল উনি প্রেজেন্ট করেছেন। ওরকম স্ক্রিন প্রেজেন্স, ব্যক্তিত্ব সিনেমায় কম আসে। কোনওদিনও দেখা হয়নি। দেখা করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু ওঁর সম্পর্কে অনেক শুনেছি।
গ্ল্যামার, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য-তিনের সুষম মিশেল ছিল সুচিত্রা সেনের মধ্যে। কথা, চাউনি সবেতেই ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠত। ফলে তাঁর অভিনয়ের একটি অন্যমাত্রা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ তাঁর অনুরাগী হয়ে উঠেছে।
আমাকে যে অনেকটা ওঁর মতোই দেখতে একথাও বহুবার অনেকজনের কাছ থেকে শুনেছি। আমিও জানি আমার সঙ্গে ওর কিছু মিল হয়তো আছে। তাই নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।
তবে অমন হাসি সত্যি বলতে কি আমিও কখনও হাসতে পারিনি। তবুও অনেকবার ওকে একবার দেখার জন্য উৎসুক ছিলাম। ওঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল। বাস্তবে না দেখা হলেও পর্দার ওঁর অসামান্য উপস্থিতি থেকে কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। সুচিত্রা সেনের সিনেমা বহু দেখেছি। কী অসামান্য প্রেজেন্টেশন। সত্যিই উনি মহানায়িকা। বাংলা ছবিতে ওঁর অবদান অসামান্য। অধিকাংশ ছবিই দারুণ বাণিজ্য করেছে। স্বভাবতই আজ চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত সবাই শোকাহত। আমিও। আমার মতো আরও অনেক, অনেক সিনেমাপ্রেমী দর্শক সুচিত্রা সেনকে নিশ্চয়ই মনে রেখে দেবেন চিরকাল। সুচিত্রা সেনদের মৃত্যু নেই। মৃত্যু হয় না।
সৌজন্যে- রূপকথা