মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬

শুভ জন্মদিন শিল্পী নাশিদ কামাল

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৩-১৯ ১৯:১৫:৩৪

নাশিদ কামাল একজন কণ্ঠশিল্পী, লেখিকা, নজরুলসঙ্গীত শিল্পী পরিষদের সহসভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যাণ বিভাগের অধ্যাপিকা।
তিনি বাংলা লোকগীতির বিখ্যাত শিল্পী আব্বাসউদ্দিন আহমদের বড় নাতনি। নজরুল সঙ্গীতের শিল্পী হিসেবে বিখ্যাত।
নজরুল সঙ্গীতে তাঁর অবদানের জন্য তিনি ২০০৯ সালে নজরুল একাডেমি থেকে নজরুল পুরস্কার এবং ২০১৪ সালে নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে নজরুল পদক পেয়েছেন।
মোস্তফা কামাল ও হুসনে আরা কামালের তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় নাশিদ কামালের জন্ম ১৯ মার্চ যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে।
নাশিদের পিতা একজন বিচারক ছিলেন এবং বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মা ছিলেন কবি, অধ্যাপিকা ও জনহিতৈষী।
তিনি অবসরের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। নাশিদ কামালের অন্য দুই বোন হলেন নীলা সাত্তার ও নাফিজা কে মনেম।
তাঁর চাচা মুস্তাফা জামান আব্বাসী প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ এবং ফুফু ফেরদৌসী রহমান কিংবদন্তি জনপ্রিয় নেপথ্য গায়িকা।
দুই বছর বয়সে নাশিদ কামাল লন্ডন থেকে পিতামাতার সঙ্গে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে চলে আসেন। ছোট থাকতেই তিনি গান গাওয়া শুরু করেছিলেন।
১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) পূর্বপাকিস্তান কেন্দ্রের উদ্বোধনী দিনে শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি গান করেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ওস্তাদ পি. সি. গোমেজ, ওস্তাদ আখতার সাদমানি, ওস্তাদ কাদের জামেরি, পণ্ডিত যশরাজ প্রমুখ প্রখ্যাত গুরুর কাছে সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেন।
গান শেখা ও গাওয়ার সঙ্গে তিনি তার্কিক ও উপস্থাপক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন।
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা 'তর্ক যুক্তি তর্ক' অনুষ্ঠানে তিনি শ্রেষ্ঠ বক্তার পুরস্কার লাভ করেন।
নাশিদ কামাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত চিকিৎসক আনিস ওয়াইজকে বিয়ে করেন যিনি মেজর জেনারেল পদে থাকা অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত হন। আনিস ২০০২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কোনও সন্তানাদি নেই। 
নাশিদ কামালের দুই মেয়ে আরমীন মুসা ও আশনা মুসা তাঁর আগের সংসারের। আরমীন 'ঘাসফড়িং' ব্যান্ডের গীতিকার গায়িকা আর আশনা যুক্তরাজ্য নিবাসী আইনজীবী।
নাশিদ হলিক্রস গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৯৭৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের মেধা তালিকায় ৭ম স্থান অধিকার করেন।
হলিক্রস কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় সমন্বিত মেধাতালিকায় ২য় স্থান লাভ করেন।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক শ্রেণিতে পড়ালেখা করেন এবং ১৯৮০ সালে নিজের বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। এরপর তিনি কানাডার কার্লেটন বিশ্ববিদ্যালয় (অটোয়া) থেকে ১৯৮২ সালে গণিত বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি লন্ডনের ক্যামডেন এ ‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিনি এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’ (LSHTM) এ মেডিক্যাল ডেমোগ্রাফিতে ডক্টোরাল ডিগ্রির জন্য যান এবং ১৯৯৬ সালে পিএইচডি লাভ করেন।
নাশিদ কামালের প্রফেশনাল ক্যরিয়ার শুরু হয় ১৯৮৩ সালে যখন তিনি ICDDR.B যোগদান করেন। তিনি সেখানে তিন বছর কাজ করেন। তিনি বাংলাদেশ এবং সুদানের হয়ে UNFPA-এর উপদেষ্টা ও ছিলেন। তাঁর প্রকাশনা বহুল স্বীকৃত স্বাস্থ্য জার্নাল- 'দ্য লানসেট' সহ ২৫ টিরও বেশি পিয়ার রিভিও জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে তিনি প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ডীন।
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা।
 


এ জাতীয় আরো খবর