আমার স্বাধীন ভাবনাকে কেড়ে নেয় ওরা,
মুছে ফেলে তারুণ্য ঘেরা সৃষ্টির সুধা- উন্মুখ সুখ;
মুছে ফেলে উদাত্ত আহবানে জাগা-
আনন্দ-বেদনা,হাসি-কান্নার এক বাংলা বুক।
আমি কী ভাবতে পারি না আকাশ আমার চোখ
মেঘেরা বৃষ্টি ঝরায় সে চোখে বারবার!
আমি কী ভাবতে পারিনা ফাগুন আমার যৌবন
দখিনা হাওয়ায় উসকে ওঠে সে যৌবন অনন্ত বসন্তে!
আমি কী ভাবতে পারি না ফুল আমার হাসি
ভ্রমরের গুনগুন গান সে ফুলের বক্ষজুড়ে
গন্ধ ছোটায় বাতাসে বাতাসে!
আমি কী ভাবতে পারি না চাঁদ আমার মুখ
শুক্লপক্ষের পূর্ণিমায় সে মুখ জোছনা ছড়ায়
পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে অসীম মায়ায়!
আমি কী ভাবতে পারি না তুমি আমার প্রেম
তুমিই অপার তৃষা,
তুমিই সত্য নিরূপণ করো আমার চিত্তে;
যা দেখি তোমারই জন্য
যা লেখি তোমারই জন্য
যা শিখি তোমাকেই আকুল করার প্রস্রবন মাখা
এক একটা সদ্য ফোটা ফাগুন,
জমিনে বেড়ে ওঠা পলাশ,শিমুল,কৃষ্ণচুড়ার রঙে রঙিন
আমার ভায়ের রক্তে মেশা লাল টকটকে আগুন।
আমার স্বাধীন ভাবনায় ভালোবাসা থাকবে,
থাকবে শ্রদ্ধা,ভক্তি,প্রেম,
থাকবে মানুষের প্রতি মমত্ববোধ
মানুষের কল্যাণেই থাকবে প্রকাণ্ড উচ্ছ্বাস
যেন সফেন জলধ।
আমার এ গুলোকে হরন করে ওরা,
চুষে নেই ব্লটিং পেপারের মতো সজীব মগজ,
মননের গভীর তরঙ্গ ক্রমে ক্রমে বিলীন করে।
আমি শুকনো একটি বৃক্ষ হয়ে যাই কখন যেন!