শেখ সাদী খান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন স্বনামধন্য প্রখ্যাত সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক।
তাঁকে বাংলাদেশের সঙ্গীতের জাদুকর বলে অভিহিত করা হয়। তাঁর বেড়ে ওঠা উপমহাদেশের বিখ্যাত এক সঙ্গীত পরিবারে।
জন্ম ৩ মার্চ ১৯৫০ সালে শিল্প সংস্কৃতির লীলাভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামের এক সঙ্গীত সমৃদ্ধশালী পরিবারে। তাঁর বাবা উপমহাদেশের বিখ্যাত সুর সাধক ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ তাঁর জ্যাঠা।
তাঁরা এগারো ভাইবোন। অন্যান্যরা হলেন আম্বিয়া খানম, ওস্তাদ আবেদ হোসেন খান, ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান, মোবারক হোসেন খান, মমতা খানম, ইয়াসমিন খানম, তানসেন খান, বিটোফেন খান, কোহিনূর খানম ও রিজিয়া বেগম। এঁদের মধ্যে শেষের দুইজন অল্প বয়সে মারা যাওয়ায় তাঁদের নাম আলোচনায় আসেনা।
প্রথম সঙ্গীতের তালিম নেন তিনি বাবার কাছ থেকে। শেখেন তবলা ও বেহালা বাদন। তাঁর শৈশব কাটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায়।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনার শুরু। ঢাকার ধানমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর আইমিউজ ও বিমিউজ করেন ঢাকা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে।
১৯৬৩ সালে মেজোভাই সরোদ বাদক ওস্তাদ বাহাদুর খানের সাথে ভারতে যান বেহালায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শেখার জন্য। তিন বছর তাঁর অধীনে তালিম নিয়ে ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
১৯৬৫ সালে রেডিও পাকিস্তানে ও ১৯৬৮ সালে বেহালা বাদক হিসেবে পাকিস্তান টেলিভিশনে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্ত হন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ বেতারে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
২০০৭ সালের মার্চে প্রধান সঙ্গীত প্রযোজক হিসেবে বাংলাদেশ বেতার থেকে অবসর নেন।
শেখ সাদী খান সত্তরের দশকে সঙ্গীত পরিচালক খন্দকার নুরুল আলমের সহকারি হিসেবে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন।
১৯৭৭ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সারাদেশে খ্যাতি লাভ করেন।
প্রথম চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করার সুযোগ পান ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত 'এখনই সময়' চলচ্চিত্রে। এ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে বাচসাস পুরস্কার পান তিনি।
১৯৮৫ সালে তাঁর সঙ্গীত পরিচালনায় 'সুখের সন্ধানে' চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মান্না দে। এছাড়া তিনি আশা ভোঁসলে, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, রুনা লায়লাসহ দেশি বিদেশি অনেক শিল্পীর সাথে কাজ করেন।
তিনি দু'বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও তিনবার বাচসাস পুরস্কার লাভ করেন।
আজ ৭৫ এ পা রাখলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জীবন্ত এই কিংবদন্তি। জীবন থেকে খসে পড়লো তাঁর আরও একটি বছর।
তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।