বরিশালের সন্তান খায়রুল আলম সবুজ দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিনয় ছাড়াও তিনি ভালো একজন লেখক এবং অনুবাদক হিসেবেও যথেষ্ট সমাদৃত।
সম্প্রতি তিনি ভূষিত হয়েছেন শিল্পকলা পদক/২০২২ সম্মাননায়।
এক সময় অভিনয়ের পাশাপাশি অন্যকিছু করলেও এখন অভিনয়ই তাঁর নেশা এবং পেশা।
তাই জীবনের এ পর্যায়ে এসে কখনোই আফসোস হয়নি যে, অভিনেতা না হয়ে অন্যকিছু হলে হয়তো জীবন আরও সুন্দর হতো।
বরং প্রতি মুহূর্তে মনে হয়েছে, অভিনেতা হয়েই জীবনে অনেক সম্মান পেয়েছেন। পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা।
মাত্র বারো বছর বয়স থেকে বরিশালে থাকাকালীন অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন খায়রুল আলম সবুজ।
তখন পাড়ায় মঞ্চদল করে নাটকে অভিনয় করতেন। তাঁর অভিনীত প্রথম মঞ্চ নাটক ছিল ‘সূর্যমুখী’। এরপর পাকিস্তানের করাচিতে চলে যান পড়াশোনা করতে। সেখানে অনার্সের শুরু পর্যন্ত তিনি গান এবং অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
পাকিস্তান টেলিভিশনে তাঁকে ১৯৭০ সালে প্রথম গান গাইতে দেখা যায়। ভালো রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারেন তিনি।
১৯৭১ সালের ১৮ মার্চ সবুজ ঢাকায় চলে আসেন। এসে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে। সেখানে ম. হামিদের সঙ্গে ডাকসু নাটক বিভাগে ‘নাট্যচক্র’ গড়ে তোলেন। ম. হামিদ ছিলেন সভাপতি আর সবুজ ছিলেন সাধারণ সম্পাদক।
মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ‘নাট্যচক্র’র মাধ্যমেই নাটকের এক বৈপ্লবিক আন্দোলন শুরু হয়।
নাট্যচক্র থেকেই সেলিম আল দীন ও আল মনসুরের লেখা দুটি নাটক মঞ্চস্থ হয়। এরপর তিনি ‘থিয়েটার’এ যোগ দেন।
এই দলের হয়ে মঞ্চে ২২ বছর অভিনয় করেছেন। থিয়েটারের হয়ে খায়রুল আলম সবুজ অভিনয় করেছেন পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, এখানে এখন, ওথেলো, সেনাপতিসহ আরও বেশকিছু নাটক। এই দলের হয়ে তিনি নিদের্শনা দেন নিজেরই অনুবাদ করা নাটক ‘আন্টিগোনে’। এটি একটি ফরাসি নাটকের অনুবাদ ছিল।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে সবুজ প্রথম অভিনয় করেন প্রয়াত আতিকুল হক চৌধুরী পরিচালিত ‘জলের রঙ্গে লেখা’ নাটকে।
টিভিতে তাঁর অভিনীত প্রথম ধারাবাহিক নাটক ছিল ‘ঢাকায় থাকি’। তবে চলচ্চিত্রে এই বরেণ্য অভিনেতাকে খুব কমই দেখা গেছে। পুনে ইন্সটিটিউট থেকে নির্মিত ‘উজান’ চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম অভিনয় করেন।
এরপর ‘ছাড়পত্র’ নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও তিনি অভিনয় করেন। বেলাল আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’, সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘মোল্লাবাড়ীর বউ’ চলচ্চিত্রেও তাঁকে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
তবে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে চলচ্চিত্রে অভিনয় করাটা তাঁকে মন থেকে খুব বেশি সায় দেয়নি বলেই সেখানে তাঁর উপস্থিতি কম।
খায়রুল আলম সবুজের সহধর্মিণী শিরীন আলম। তাঁর এক মেয়ে প্রতীতি পূর্ণা।
গুণী এ অভিনেতা অভিনয় করেছেন মীর সাব্বির পরিচালিত আরটিভির দর্শকপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘নোয়াশাল’ ও এটিএন বাংলায় প্রচারিত ধারাবাহিক ‘সাতটি তারার তিমির’ এ।
আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি খ্যাতিমান ও বর্ষীয়ান এই অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪৯ এর এই দিনে তিনি পৃথিবীতে আসেন। জীবন থেকে খসে পড়লো তাঁর আরও একটি বছর।
ফেসবুক পরিবারের পক্ষে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।