১৯৭১ এ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন খ্যাতিমান অভিনেতা তরুণ কুমার।
একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা দিন!!!
গোটা ভারতের লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা সোচ্চার ছিলেন মুক্তি সংগ্রামের পক্ষে। তাঁরা সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলেন ‘মানবিক বোধ’ এর টানে।
আবার অনেকের মনে এই বোধের সঙ্গে ছিল মাটি ও শেকড়ের টান!!!
একাত্তরে ঘরে বসে থাকেননি খ্যাতিমান অভিনেতা তরুণ কুমার।
তিনি প্রতিমুহূর্তে বাংলাদেশের যুদ্ধের অগ্রগতির বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখতেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থী শিবিরের অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করতে ওই সময় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত সহায়তা দিয়েছেন। তাঁদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন ওষুধপত্র।
তরুণকুমার দর্শনা সীমান্তে গিয়ে ওষুধপত্র পৌঁছে দিতেন মুক্তিযোদ্ধাদের। সঙ্গে নিয়ে যেতেন ডাক্তার। চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তিনি জীবনের কোনও স্তরেই ভুলতে পারেননি।
জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তাঁর স্মৃতিতে উজ্জ্বল ছিল কলিম শরাফী, জহির রায়হান, বেবি ইসলাম, সুভাষ দত্ত, আনোয়ার হোসেন, আলমগীর কবিরের কথা।
জন্ম ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১ সালে কলকাতায়। তাঁর ডাক নাম বুড়ো।
তরুণ কুমারের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস যশোরে।
যশোর থেকে তাঁদের পূর্বপুরুষরা প্রথম বসতি স্থাপন করে চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতে। তারপর কলকাতায়।
তরুণ কুমার বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের ছোট ভাই। তাঁর শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলায়।
তরুণ কুমার এক বিরল প্রতিভাবান অভিনেতা। উত্তম কুমারের পাশে তিনি নিজের মুন্সিয়ানা বজায় রেখে দর্শকের কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন।
দুই ভাই স্ক্রিনশেয়ার করলে তা হতো এক একটা অসাধারণ দৃশ্য।
তরুণ কুমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাঁর জাত চিনিয়ে দেন। উত্তম কুমার মহানায়ক হলেও তাঁর আগেই তরুণ কুমার জাতীয় পুরস্কার পান ‘দাদা ঠাকুর’ ছবির জন্য।
উত্তমের ছায়াসঙ্গী ছিলেন ছোট ভাই তরুণ কুমার। উত্তম কুমারের অভিনয় ভালো লাগলে তিনি তাঁকে প্রণাম করতেন, আবার ভালো না লাগলে মুখের ওপর বলে দিতেন অপছন্দের কথা।
যেমন ‘অমানুষ’ ছবিতে উত্তম কুমারের অভিনয় দেখে তরুণ কুমার বলেছিলেন ‘তোমার অভিনয় আমার একদম ভালো লাগেনি। এমন অভিনয় তোমার কাছ থেকে আশা করিনি। এমন প্রগলভতা তোমাকে মানায় না দাদা।’
তরুণ কুমার প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র সমূহের মধ্যে রয়েছে - দেয়া নেয়া, দায় দায়িত্ব, মনের মতো মন, রণক্ষেত্র, জীবন সন্ধান, দামু, সংঘর্ষ, পৃথিবীর শেষ স্টেশন, পেন্নাম কলকাতা, পতি পরম গুরু, অভাগিনী, নীলিমায় নীল, নবাব, রক্তঋণ, মহাপীঠ তারাপীঠ, অঘটন আজও ঘটে, তুমি কত সুন্দর, কিডন্যাপ, আবির, স্বর্ণময়ীর ঠিকানা, রাজ পুরুষ, নিশিবাসর, ডাক্তার বউ, স্বর্গ সুখ, তিল থেকে তাল, বৈকুণ্ঠের উইল, শোরগোল, সূর্য তৃষ্ণা, প্রতিদান, রাজেশ্বরি, সাগর বলাকা, সংসারের ইতিকথা, খেলার পুতুল, পাহাড়ি, ফুল, বন্ধন, পাকা দেখা, পঙ্খীরাজ, সন্ধি ইত্যাদি।
২৭ অক্টোবর ২০০৩ সালে খ্যাতিমান এই অভিনয়শিল্পী প্রয়াত হন।