ভারতের তামিলনাড়ুর শিবকাসিতে ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট জন্ম হয় শ্রীদেবীর।
তাঁর আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আয়াপ্পান। তাঁর আইনজীবী বাবা আয়াপ্পান ইয়াঙ্গার ছিলেন একজন তামিল এবং মা রাজেশ্বরী ইয়াঙ্গার ছিলেন তেলেগু। শ্রীদেবীর এক বোন ও দু'জন সৎভাই রয়েছেন।
১৯৯৬ সালে তিনি অভিনেতা অনিল কাপুরের বড়ভাই বনি কাপুরকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুই মেয়ে জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর।
শ্রীদেবী চার বছর বয়সে একটি ভক্তিমূলক তামিল চলচ্চিত্র 'থুনাইভান' এ প্রথম অভিনয় করেন। ছবিটি ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায়। একজন শিশুশিল্পী হিসেবে ১৯৭১ সালে মালায়ালম ভাষার 'পুমপাত্তা' চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি 'সেরা শিশুশিল্পী' হিসেবে কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
বলিউডে শ্রীদেবীর অভিষেক হয়েছিলো একজন শিশুশিল্পী হিসেবে 'জুলি' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে।
শ্রীদেবী বলিউডে প্রথম নায়িকার চরিত্র পান ১৯৭৯ সালে পরিচালক পি ভারথিরাজার 'সলভা সায়ান' চলচ্চিত্রে। এতে শ্রীদেবীর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তাঁর দূরসম্পর্কের আত্মীয় অভিনেতা অমল পালেকার।
শ্রীদেবী ১৯৮৯ সালে 'চালবাজ' চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় 'না জানে কাহা সে আয়ি হ্যায়' গানটির শুটিং করেছিলেন ১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে শ্রীদেবী কাজ করেছিলেন 'সাদমা', 'চাঁদনী' 'গরজনা' এবং 'খনা খনাম' চলচ্চিত্রে।
শ্রীদেবী ১৯৯৩ সালে হলিউডের স্বনামধন্য পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গের 'জুরাসিক পার্ক' চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলিউডে তাঁর ব্যস্ততার জন্য।
তামিলভাষী শ্রীদেবী হিন্দি বলতে না পারার কারণে বলিউডে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন। সাবেক অভিনেত্রি কুমারী নাজ শ্রীদেবীর পক্ষে ডাবিং করতেন।
১৯৮৬ সালের 'আখেরি রাস্তা'য় শ্রীদেবীর ডাবিং করেছিলেন অভিনেত্রি রেখা। শ্রীদেবী তাঁর 'চাঁদনী' চলচ্চিত্রে প্রথম নিজের ডাবিং নিজেই করেছিলেন।
অভিনেত্রি জয়া প্রদাকে শ্রীদেবীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হতো। তাই এই দুই অভিনেত্রির মধ্যে কখনোই আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারেনি।
১৯৮৪ সালে ‘মাকসাদ’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় অভিনেতা রাজেশ খান্না এবং জিতেন্দ্র চেষ্টা করেছিলেন জয়া প্রদা এবং শ্রীদেবীর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে দিতে। সেসময় তাঁদের দুজনকে এক ঘরে কিছুক্ষণের জন্যে আটকেও রাখা হয়েছিলো। পরে দরজা খুলে তাঁরা দেখতে পান শ্রীদেবী এবং জয়া ঘরের দুই কোণায় চুপচাপ বসে আছেন।
শ্রীদেবীর জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র হিসেবে দেখা হয় দুটি চলচ্চিত্র 'নাগিন' ও 'চাঁদনী'কে।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে তিনি প্রয়াত হন।