মনপুরা’র নায়িকা ফারহানা মিলিকে মনে আছে? একটি মাত্র চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই বাজিমাত!
ফারহানা মিলির ক্যারিয়ারে কাজের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সেই স্বল্প কাজের মধ্যেই ২০০৯ সালে গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘মনপুরা’ তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। চঞ্চল চৌধুরীর পাশাপাশি সেই সিনেমায় নজর কেড়েছিলো ফারহানা মিলির অভিনয়ও। পরের বছর ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’ এর জন্য মনোনীতও হয়েছিলেন তিনি।
‘মনপুরা’র আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরও কেন তাঁকে আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি? নানা প্রশ্ন অনুরাগীদের মনে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘মনপুরা’ মুক্তির দুই বছরের মাথায় ২০১১ সালে রাশিদুল ইসলাম নামে এক ইঞ্জিনিয়ারকে বিয়ে করেন এই অভিনেত্রি। রুসলান নামে একটি ছেলে সন্তানের মা ও হয়েছেন তিনি।
আসলে ‘মনপুরা’র সাফল্যের পরও সিনেমায় তাঁকে দেখতে না পাওয়ার মূল কারণ হলো ‘মনপুরা’র পর বড়পর্দায় কাজ করার মতো সেরকম কোনো গল্প বা চরিত্র তিনি পাননি। টুকটাক প্রস্তাব অবশ্য পেয়েছিলেন, তবে গল্প আর চরিত্র মনঃপূত না হওয়ায় কথাবার্তা বেশিদূর এগোয়নি।
বর্তমানে সংসার নিয়েই ব্যস্ততা বেশি তাঁর। তবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গল্প অবলম্বনে ‘বনের পাপিয়া’ নামের একটি নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্র রমলার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিলি। নাটকটি পরিচালনা করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ।
ফারহানা মিলির শোবিজ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে ‘জুট ঝামেলা’ নামে একটি নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে ‘পোস্ট গ্র্যাজুয়েট’সহ বেশকিছু নাটকে তাঁকে দেখা যায়।
ষোলো বছর আগে ২০০৯ সালে ‘মনপুরা’ দিয়ে শুরু হয় তাঁর চলচ্চিত্র যাত্রা। সেখানে পরী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আসেন আলোচনায় তিনি।
চলচ্চিত্রটি সেসময় বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেলেও মিলির হাতে কোনও পুরস্কার ওঠেনি। তবে এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাঁর। 'মনপুরা' চলচ্চিত্রটির জন্য 'স্টার প্লাস কমিউনিকেশনস' এর পক্ষ থেকে 'এক ছবিতেই ইতিহাস' শিরোনামে একটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছেন মিলি।
অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে, সম্মাননাটি গ্রহন করেছেন তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রুনা লায়লার হাত থেকে।
আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মিলির জন্মদিন। জীবন থেকে খসে পড়লো তাঁর আরও একটি বছর।
ফের কবে তিনি বড়পর্দায় আসবেন, সেই অপেক্ষায় দর্শক এখনো তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।মিলির জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।