গুটি গুটি পায়ে আজ ৭৯ তে পা রাখলেন অভিনেতা সোহেল রানা। তাঁর প্রকৃত নাম মাসুদ পারভেজ।
তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক এবং পরিচালক।
ছবির জগতে আত্মপ্রকাশ করে মাসুদ পারভেজ নাম ধারন করে। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি 'ওরা ১১জন' তাঁর প্রযোজিত ছবি।
১৯৭৩ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র 'মাসুদ রানা'র গল্প অবলম্বনে একই শিরোনামে নির্মিত 'মাসুদ রানা' ছবিতে নায়ক হন '৭৪ সালে।
সোহেলরানার জন্ম ১৯৪৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায়।
শিক্ষাজীবনে তিনি একজন তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। তিনি ৭১' এ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তাঁর পৈত্রিক বাসস্থান বরিশাল জেলায়।
সোহেলরানা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ নেতা ছিলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তাঁর তুই তোকারি সম্পর্কের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এক পত্রিকায় সাক্ষাত দানকালে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন 'সোহেল রানা আমার নেতা। তাঁর কাছে আমার রাজনীতির হাতে খড়ি'।
জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দল থেকে তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন না হওয়ায় জীবনের এ পর্যায়ে এসে তিনি অভিমান করে দল থেকে সরে পড়েন।
২০০৯ সালে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ গ্রহন করে এই দলে যোগ দেন। নির্বাচন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এইচ এম এরশাদের।
১৯৯০ সালে তিনি ডা. জিনাতকে বিয়ে করেন। তাঁদের একমাত্র পুত্র সন্তান মাশরুর পারভেজ জিবরাস। তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অভিনেতা হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো - গোপন কথা, এপার ওপার, দোস্তদুশমন, মিন্টু আমার নাম, গোনাহগার, আসামী হাজির, লালুভুলু, পেনশন, কমান্ডার, হাস্নাহেনা, রাজরানী, জীবন নৌকা, দাতা হাতেমতাঈ প্রভৃতি।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে তাঁর পরিচালিত 'এপার ওপার' ছবিতে নায়িকা হিসেবে আনেন কলকাতার ডাকসাইটে চলচ্চিত্র ও টিভি অভিনেত্রি সোমা মুখার্জীকে। ছবিটি সেসময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
অভিনেতা আলতাফের গাওয়া গান 'ওরে আমার পুতুল তুই যে আমার গোলাপফুল' কিম্বা সোমা মুখার্জীর ঠোঁটে উচ্চারিত 'বন্ধু ওগো কি করে ভাবলে তুমি চলে গেলে আমি সুখে থাকবো' আজও স্মৃতি কাতর দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে।
তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।