মহেশখালী কক্সবাজার ২৯ জুলাই
বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এ ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ৬০০ মেগাওয়াট।
আজ শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এ ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়।
মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের এমডি আবুল কালাম আজাদ, কোল পাওয়ারের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুর রহমান, সাইট ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন, রোকনজ্জামান ও সিকিউরিটি অফিসার আলফাজ উদ্দিনসহ একটি দল উৎপাদনের কাজ শুরু করে।
এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ জানান- মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ চলবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
কক্সবাজার-২,মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক বলেন-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেগা প্রকল্পের অন্যতম মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি বড় সাফল্য।মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোদমে চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুৎ খাতে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে চুল্লি থেকে ধোঁয়া বের হয় এবং পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু করা হয়।
প্রথম দিনে তেল দিয়ে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এবং তা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে। এরই মধ্যে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দুই লাখ টন কয়লা সংরক্ষণ রয়েছে বলে জানা যায়।
মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২ দুইশত মেগাওয়াট।
কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের মাঝামাঝি এক হাজার ৬০৮ একর জমির ওপর বিস্তৃত এ বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার এবং জাইকার প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। আগামী মার্চ বা এপ্রিল মাসে এ কেন্দ্রটি পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানা যায়।
এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে, যা সফল হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে উৎপাদন প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছি।
মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোর কাজ এরই মধ্যে ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সার্বিক ভৌত অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৯০ শতাংশ। এতে জাতীয় গ্রিডে ১২৫ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে। ইউনিটটির পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সফলতা পেলে বিদ্যুৎ সরবাহ নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। এটি আগামী বছর বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।