চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর বাজারে গত মঙ্গলবার(১৭ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে পূর্ব শত্রæতার জেরে ছুরিকাঘাত ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ছাত্রলীগের এক নেতা ও এক শিক্ষার্থী সহ জোড়াখুনের প্রতিবাদ,খুনীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিশাল মানববন্ধন,তুমুল বিক্ষোভ ও সমাবেশ এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী। শুক্রবার(২০ডিসেম্বর) বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর পর্যন্ত তিন ঘন্টারও বেশি সময় যাবৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নাচোল-গোমস্তাপুর আঞ্চলিক সড়কের মল্লিকপুর বাজারে এই কর্মসূচি পালিত হয়। পরে প্রশাসনের আশ^াসে তিন দিনের মধ্যে খুনীদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচী শেষ করা হয়। বিকেলে ফতেপুর ইউনিয়নের খলসী বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মল্লিকপুর বাজারে গিয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্মসূচী শুরু করা হয়। কর্মসূচীতে বক্তব্য দেন নিহত মাসুদ রানার পিতা এজাবুল হক, নিহত রায়হানের পিতা আব্দুর রহিম, রায়হানের ভাই জাহাঙ্গীর, আকবর, ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন প্রমুখ। এসময় তারা নৃশংস এই জোড়া খুনের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দাবি করেন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করেন। এসময় উপস্থিত নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম সহ গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন ও সন্ধ্য ৭টা নাগাদ সড়ক সম্পূর্ণ চালু হয়। উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা ফিরে যান
উল্লেখ, গত মঙ্গলবার রাতে মল্লিকপুর বাজারে স্থানীয় শহিদ জিয়া স্মৃতি সংঘ ্আয়েজিত বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা,পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষাংশে বাহির মল্লিকপুর গ্রামের প্রতিপক্ষ গ্রæপের হামলায় খলসি গ্রামের ৬ কিশোর-তরুন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে খলসী গ্রামের এজাবুলের ছেলে,চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স ৮ম সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী,পলিটেকনিক ছাত্রলীগ নেতা ও নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মাসুদ রানা (২০) এবং একই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ও নাচোলের মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাালয় থেকে ৫ম শ্রেনী সমাপনী পরীক্ষা দেয়া মো.রাইহান(১৫) মারা যান। ওই ঘটনায় আহত হয় আরও ৪ জন। তাদের দু’জন খলসির জালালের ছেলে সুমন(১৮) ও আলমের ছেলে মো.রজবকে (১৭) উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক পাঠানো হয়। আহত আব্দুর রাকিবের ছেলে ট্রাক শ্রমিক মো.আরমানকে (২১) ও ফিরোজের ছেলে ইমনকে(১৫) জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, পেয়ারা বাগানে পেয়ারায় পিপি (পেয়ারা রক্ষার পলিব্যাগ) পরানো নিয়ে পাশাপাশি বাহির মল্লিকপুর ও খলসি দু’গ্রামের কিশোর-তরুন কৃষি শ্রমিকদের দুটি গ্রæপের পূর্ব শত্রæতার জেরে বাহির মল্লিকপুর গ্রামের গ্রæপের খলসি গ্রামের কিশোর-তরুনদেও উপর পরিকল্পিত হামালার হতাহতের ঘটনায় বুধবার(১৮ ডিসেম্বর) নাচোল থানায় মামলা করেন নিহত মাসুদের বাবা। এতে বাহির মল্লিকপুর গ্রামের শাহীনকে(২০)প্রধান সহ ১০ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে আসামী করা হয়। এর আগে ঘটনার পর রাতেই পুলিশ এজাহারনামীয় আসামী বাহির মল্লিকপুর গ্রামের বাহার আলী মন্ডলের ছেলে আজিজুল হক (৫২), মো. এজাবুলের ছেলে মো. তাসিম (৩২)কে আটক করে পুলিশ। ঘটনায় বাহির মল্লিকপুরের কেউ হতাহাত হয়ণি। নৃশংস ও আলোচতি এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার জেলা পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে। পরদিন গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার দু’জনকে ৭দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। শনিবার(২১ ডিসেম্বর) দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নাচোল থানার এস আই দেওয়ান আলমগীর হোসেন বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দু’সপ্তাহ আগে খলসি গ্রামের শ্রমিক সর্দার সালামের প্র¯্রাবের ভিডিও ধারণ করে ফেইসবুকে আপলোড করে পাশের বাহির মল্লিকপুর গ্রামের কৃষি শ্রমিক শাহীন(২০)। এ নিয়ে দ’জনের দ্বন্দ ঘটে ও দু’গ্রামে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মারামারিও হয়। এরই জেরে গত মঙ্গলবার রাতে মল্লিকপুর বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় শহিদ জিয়া স্মৃতি সংঘ আয়োজিত আলোচনা সভা,পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুুষ্ঠান দেখে খলসির গ্রæপটি বাড়ি ফেরার পথে তাদের উপর পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা করে শাহীনের নেতৃত্তে তার গ্রæপ।