আজ রাফি আমার একটি স্বপ্ন পূরণ করেছে। সে ওর ছোট প্লেনে করে আমাকে প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে গোল্ডেন গেট ব্রিজের ওপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে।
এর থেকে সুন্দর ব্রিজ আমি এখন পর্যন্ত দেখিনি। গোল্ডেন গেট ব্রিজ আমার কাছে শুধুমাত্র একটি ব্রিজ নয়! এই ব্রিজটার দিকে তাকালেই আমার মনে হয়, সংযোগ - মানুষে মানুষে সংযোগ, সভ্যতার সাথে সভ্যতার, দেশের সাথে দেশের, চিন্তার সাথে ভিন্ন চিন্তার, মতের সাথে ভিন্ন মতের!
এই ব্রিজটি দিয়ে লোগো তৈরী করে সিসকো, যা আমার নজরে আসে নব্বই দশকের মাঝামাঝি, যখন সিসকোর রাউটার আমি হাতে পাই। তারপর সেই সিসকোতে কাজ করতে ২০০০ সালে চলে আসি সিলিকন ভ্যালী। তারপর যতবার এই ব্রিজটার কাছে গিয়েছি, ততবার অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকেছি। এর উপর দিয়ে হেটে গেছি এপার থেকে ওপারে। তবে বেশির ভাগ সময়েই কুয়াশায় চাদরে ঢাকা পেয়েছি এই শিল্পকর্মটি।
এই ব্রিজটি আমার এতই প্রিয় যে, এমনকি আমরা এখন যখন "প্রিয় পে" তৈরী করছি, এই ব্রিজটির ছবি আমরা বারবার ব্যবহার করি এই একটি কারণেই - সংযোগ। আমেরিকার সাথে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংযোগ তৈরী!
রাফি কামাল যেদিন থেকে উড়োজাহাজ চালানো শুরু করেছে, সেই থেকেই ওকে বলে রেখেছিলাম, আমাকে যেন একদিন গোল্ডেন গেট ব্রিজের ওপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যায়।
রাফি আমার সাথে কাজ করতো ঢাকায়। তারপর সরাসরি গুগলে চাকুরি নিয়ে চলে আসে। বাংলাদেশের খুব কম ছেলেমেয়ে আমাকে ইম্প্রেস করতে পারে। রাফি হলো সেই মানুষ যে বুয়েট থেকে পাশ করেই প্রথম মিটিংয়েই আমাকে ইম্প্রেস করে, এবং আমরা একসাথে কাজ করতে শুরু করি। ও যেহেতু উড়োজাহাজ চালাচ্ছে, তাই আমার বিন্দুমাত্র ভয় কাজ করেনি। কারণ, রাফি যদি তার জীবনের ঝুকি নিয়ে এই ছোট প্লেন উড়াতে পারে, তাহলে আমিও ওর সাথে এই ঝুকি নিতে পারি! এবং রাফি এতো স্মুথ টেক-অফ করে ব্রিজের খুব কাছ দিয়ে উড়িয়ে এবং শেষে ল্যান্ডিং করলো, আমি হা হয়ে তাকিয়ে থাকলাম!
রাফির প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই! আমি এতটাই সৌভাগ্যবান যে রাফির মতো মানুষকে কাছে পেয়েছি। ওর বুদ্ধি আমাকে সব সময় মুগ্ধ করে, ওর বিনয় আমাকে আরো কাছে টানে!
প্লেন থেকে নেমে শুধু একটা কথাই মনে হচ্ছে, ব্রেইনের কোনও বিকল্প নেই! ইস, আমরা যদি এমন হাজারটা রাফি পেতাম - বুদ্ধিদৃপ্ত, বিনয়ী এবং সাহসী!