ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি ঃ নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন বিএনপি’র নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খোকার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষককের নিকট চাঁদা দাবী ও সরকারী জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৮ নভেম্বর শিক্ষক শেখ মোন্তাজুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল খুলনা মহানগর আহবায়ক বরাবর একটি অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগে উল্লেখ, খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র সহকারী শিক্ষক পদে ৩১ বছর সুনামের সহিত শিক্ষকতা করে আসছি। গত ৭ নভেম্বর অত্র মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী মাহিয়া, মাতা- সুমাইয়াকে কেন্দ্র করে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানরত অবস্থায় একটি অসত্য, ভিত্তিহীন কথা বলে আমার উপর মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছে। তৎক্ষণাৎ মাহিয়ার মাতা আমার প্রাক্তন (অত্র মাদ্রাসার ছাত্রী) অভিযোগ করে বলেছে স্যারের প্রতি মিথ্যা প্রচার করা হয়েছে। পরের দিন ৮ নভেম্বর বেলা ১২টায় আমার হোমিও চেম্বার গিলাতলা নিজ বসতবাড়ির সামনে আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খোকা দীর্ঘক্ষণ আমার সাথে কথোপকথনের পর এক পর্যায়ে বলে বিষয়টি জানাজানি হলে এবং সাংবাদিক মিডিয়া জানতে পারলে আপনার অনেক ক্ষতি হবে এবং আপনার চাকুরী চলে যাবে, আপনি একজন সম্মানিত মানুষ আপনার মান-সম্মানের অনেক ক্ষতি হবে তাই আপনি আমাদের ২ (দুই) লক্ষ টাকা দেন আপনার বিষয়টি এখানেই নিষ্পত্তি করে দিব। তখন আমি তাদেরকে বলি আমি কেন টাকা দিব ? একটা মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগের জন্য আমি কেন এতগুলো টাকা আপনাদেরকে দিব, আমি কোন টাকা দিতে পারবো না। আমার এই কথা বলার পর তারা আর কোন কথা না বলে আমার হোমিও চেম্বার ত্যাগ করে চলে যায়।
এরপর ১০ নভেম্বর উক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন খোকা মাদ্রাসার শরীর চর্চা শিক্ষক এম এম জামির হোসেন ও কম্পিউটার শিক্ষক মুরাদ হোসেন সহ কয়েক জন শিক্ষককে নিয়ে মাদ্রাসায় এসে বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে না মর্মে আরোও ১০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি তাদেরকে ওই একই কথা বলি, আমি কোন অপরাধ করিনি অতএব কোন টাকা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এরপর থেকে ভিকটিমের অভিভাবক ছাড়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইউএনও সাহেবকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম। এছাড়া আমি যদি স্ব-ইচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি না নেই, তবে আমার বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে খোকা এবং জামির হুমকি ধামকি দেয়। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেন খোকা ইষ্টার্ণ জুট মিলের সামনে সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বরাদ্দ দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত পূর্বক দোষীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানাচ্ছি। পরবর্তীতে, দৈনিক মানবজমিন এর ফুলতলা প্রতিনিধি সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সাংবাদিক উক্ত মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এর নিকট সরেজমিনে বিষয়টি জানতে গেলে মাদ্রাসার শরীর চর্চা শিক্ষক এম এম জামির হোসেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশোভনীয় আচারণ করে।