চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাতিজা খাতুন(২৬) নামে একজন এনজিও কর্মীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণ শেষে হত্যা এবং ওই নারীর ৪ বছর বয়সী চাচাতো বোন তাবাসুমকে হত্যা চেষ্টার দায়ে নারী ও শিশু নির্যাতণ দমন আইনে দায়ের একটি মামলায় ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ১ লক্ষ টাকা করে অর্থদন্ড,অনাদায়ে ২ বছর কারাদন্ড সহ একই মামলার অন্য ধারায় দন্ডিত ৪ জনের বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারক আদেশে উল্লেখ করেছেন, সকল দন্ডিতের ক্ষেত্রে সকল দন্ড একত্রে কার্যকর হবে। এছাড়া মামলায় অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৪ আসামীকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
বুধবার(৪ আগষ্ট) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতণ দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার দন্ডিতদের উপস্থিতিতে আদেশ প্রদান করেন। দন্ডিতরা হলেন জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আখিরা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে আব্দুল জলিল(৪২), একই গ্রামের মন্টুর ছেলে মোহাম্মদ আলী সাদ্দাম(৩৮), আব্দুল মান্নানের ছেলে হেলাল আলী(৪৩) ও মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আওয়াল হোসেন(৫৩)।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় এবং ষ্পেশাল পিপি এনামুল হক বলেন, দন্ডিত হেলালের সাথে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক হয় খাতিজার। ২০১৮ সালের ৯ আগষ্ট দিবাগত রাতে দন্ডিত হেলাল ও তার সহযোগিরা হেলালের সাথে খাতিজার বিয়ের তারিখ ঠিক করার কথা বলে খাতিজা ও তার শিশু বোনকে আখিরা গ্রামের একটি আখক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে একাধিকজন তাকে ধর্ষণ করে,একাধিকজন অপরাধ সংগঠনে সাহায্য করে ও পরে তাদের কেউ কেউ খাতিজাকে শ^াসরোধে ও আঘাতে হত্যা করে, কেউ কেউ বাধা না দিয়ে অপরাধ সংগঠিত হতে দেয় এবং অপরাধিরা শিশু তাবাসুমকেও হত্যার জন্য আছাড় মারে। তবে সে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। পরদিন সকালে আখক্ষেত থেকে খাতিজার মরদেহ ও তাবাসুম জীবিত উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় ওইদিন শিবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের নামে মামলা করেন নিহতের পিতা ও শিবগঞ্জের লাওঘাটা গ্রামের আলাউদ্দিন। ২০২১ সালের ১৫ এপ্রিল পিবিআই,রাজশাহীর উপ-পরিদর্শক(এসআই) সাইদুর রহমান ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। ২২ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানী শেষে আদালত বুধবার ৪ জনকে দোষি সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষনা করেন। আসামীপক্ষে মামলা পরিচালননা করেন এড, মিজানুর রহমান ও অন্যরা।