খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে দম্ভের সাথে মিথ্যে বলা ও অভিনয় করা শিখে গেছে মানুষ, যা নাটক সিনেমার জাত শিল্পিদেরও হার মানাতে পারে। তারা জানে কীভাবে অভিনয় করে অন্যের emotion, selection ও support কেনা-বেচা করা যায়? আর চাতুর্য না থাকলে গুণাগুণ বিচারে বোকারা সব সময় সবার পিছনেই প'ড়ে থাকে।
যে কোনো মূল্যে নিজেদের তেলেসমাতি ক্ষমতা দেখাতে পারাটাই যেনো আজকাল মানুষের কাছে অনেক বড় success.
কিছু মানুষ আছে,যাদের কাজই হলো আগুনে ঘি ঢালা। কাউকে মন্দ কাজে প্রশ্রয় দেয়া বা সহযোগিতা করার সময় কেউ চিন্তা করে না একদিন তার নিজের বেলায়ও এমনটা ঘটতে পারে।
সবসময় অন্যায় ও অবিচারে লিপ্ত থাকা মানুষদের হাতে এই দুনিয়া যতোটা না ধ্বংস হচ্ছে, তার চেয়েও অধিক ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারাই, যারা সব জেনে-বুঝে জুলুম ও অন্যায়ের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে চলছে।
সঠিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, আমাদের সমাজে এমন মানুষগুলো সবসময় নিজেদের আভ্যন্তরীণ নানারকম সমস্যা, দূর্বলতা,দুষ্কর্ম,ক্ষত কিংবা ভয়-ভীতির মধ্যে ডুবে থাকে, এবং পাছে সব জানাজানি হয়ে যায় সে-ই আশংকায় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো একই সাথে অন্য আরেকটি অসৌজন্যমূলক নাটক মঞ্চায়ন করে।
ক্ষেত্র বিশেষে ক্ষমতা ধরে রাখা, অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন প্রকার লোভ লালসা চরিতার্থ করার অভিনয়ে মানুষ এখন দক্ষ শিল্পি হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র, সমাজ কিংবা পরিবার তন্ত্র যা-ই বলি না কেনো, নিয়ম-নীতির আদলগুলো এখন সবই এক ছাঁচে ঢেলে অনিয়মের পথে হাঁটছে।
কৌশলে লোক জড়ো করে নিজের তৈরী করা গর্তে পথের কাঁটা উপড়ে ফেলার ঘটনা যেমন সত্যি, তেমনি নিজের গায়ে নিজে আগুনের ছেঁকা দিয়ে কিংবা নিজে ন্যাংটা হয়ে অন্যকে দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনাও এখন রূঢ় বাস্তবতার কুৎসিত চিত্র।
দাওয়াত দিয়ে ডেকে আনা সম্মানিত দর্শকরা এদেশের যাত্রাপালা দেখার মতো চরম অসভ্যতার এইসব দৃশ্য দেখে বিনা পয়সায় মনোরঞ্জন করছেন। কেউ কেউ আবার উপটৌকন হিসেবে মনের মতো উপড়িও পাচ্ছেন।
Shame! Shame! বর্তমান শিক্ষা,সময় ও বোধ মানুষকে কোথায় নামিয়ে দিয়েছে? শিক্ষিত মুর্খরা উপরের দিকে থু থু ছিটিয়ে সেই থু থু তে অবলিলায় নিজেরাই গোসল করছে।
একদিকে চারপাশে স্বার্থম্বেশী কুপমুন্ডুকদের সংখ্যা প্রতিদিন গানিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে নীতিগত ভাবে যারা বিভিন্ন অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠছে,অসভ্য জুলুমবাজরা ততোই তাদের গায়ে অপবাদের আগুন ছড়িয়ে আনন্দ পাচ্ছে। কূটকৌশলে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টায় অস্থির উঠছে সহচর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের। এ যেনো চারিদিকে কেবল ভুতের শ্রাদ্ধ !
এ কথা স্বতসিদ্ধ যে, একজন দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত চরিত্রের উপরই নির্ভর করে তার পরিবার, সমাজ তথা দেশ গঠনের ধরণ। মানুষ এখন জেনে বুঝেই অন্ধকারে ঝাঁপ দিয়ে সে-ই ফল ভোগ করার কাজে নিজেকে নিয়জিত করায় ব্যস্ত!
প্রতিদিন এভাবেই একটু একটু করে রঙ বদলাচ্ছে পৃথিবী। সময়ের স্রোতে পা রেখে পালটে যাচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ,পরিবার ও ব্যক্তি জীবনের চালচিত্র।