শুক্রবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২৫

জি ল্লু র র হ মা ন প্রা মা নি ক

  • বিজয়,প্রাণের আলোয় সপ্তবর্ণা
  • ২০২৩-১২-১৭ ১৬:০৪:৪২

শৈশবে মাকে একটা ডুরে পাড়ের গাঢ় সবুজ শাড়িতে দেখেছিলাম সেই থেকে শাড়ি দেখলেই আমার সবুজ রঙটার কথা মনে পড়ে!ডিসেম্বরে দেশপ্রেমের গান শুনলেই আমার সবুজের হাহাকার জাগে_

ট্রেনের ঝিকঝিক ঝিকঝিক দুলনিতে মৃদু চোখ লেগে এলে 
অগ্রহায়ণের ধানক্ষেতে বাতাসের দোলনার পা ছড়িয়ে ধানের শিষের অর্ধনৃত্যের সাথে কতগুলো বাচ্চার হাসির আওয়াজ শুনতে পাই যেনফিরছি, একেই কী তবে ফেরা বলে?

আজব এক রোগ হয়েছে আমার এখন বাড়িটাকেও ঠিক চিনতে পারি না।
দুইউনিটের বাসা, বানির্শ ফার্নিচার, সাজানো ড্র্য়িং, ব্রুনো নামের ট্রেইন্ড কুকুরটার জিভ দিয়ে লেপ্টে ভালোবাসাময় অর্ভ্যত্থনা,পরিকল্পিত সজ্জিত ইনডোর প্ল্যান্ট, আলো-ছায়ার চমৎকার খেলা, ছাদে কত রকম দেশি-বিদেশি কালচারড ফুলের গাছ, হাইব্রিড স্ট্রবেরির লাল বাম্পার ফলন কিংবা বাবার ছাদবাগানে মালটা আর ড্রাগনের উল্লম্ফন_
কী আশ্চর্য সুখময় জীবনে ডুব দেওয়া।

কখনো কখনো স্বপ্নে কার যেন একটা বাড়ি দেখি বিস্তীর্ণ উঠোনে কতগুলো ছেলেপুলে
পাশাপাশি লাগোয়া দেয়ালের ইট গাঁথেনি তখনো কে কোন বাড়ির বোঝা যায় না কয়েক ওয়াক্ত না থাকলে ; অযথাই লুটোপুটি করে, কে অপরাধী, তাকে খুঁজে না কেউ_
এক নাগাড়ে সব কয়জন মার খায় একই অপরাধে!

কয়েকটা ন্যাংটো ছেলেপুলের কোমড়ের কালো সুতোয় বাধা ঝুনঝুনির আওয়াজের সাথে মিলে যায়
সদ্য লাফাতে শেখা বাছুরটার গলার ঘন্টির বিড়িংবিড়িং_
ধান সেদ্ধ করছিল যে সিঁদুর দেওয়া কাকীমা তার মেয়েটার খিনখিনে কান্না চাপা পড়ে যায়
ছাগলের ছানাগুলোর একটানা ম্যা ম্যা চিৎকারে; আর বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করে একটা আশটে রঙা হুলো বেড়াল তাড়া করলেও ডাকে-ম্যাঁও ব্রুনোর মতো পেট ফুডের মেন্যু মেইন্টেইন করে
খায় না এরা কেউই-বাজারে করতোয়ার বোয়াল এলে কানকোঁয় পাটের আঁশের দঁড়ি দিয়ে নতুন বৌয়ের মতো গর্বে নথ নাড়িয়ে হাঁটার ছন্দে দুলিয়ে ঝুলিয়ে পুরো পথ নাচাতে নাচাতে রান্না ঘরে গেলে পরে
অযাচিতভাবে মাছের ঝোলের স্বাদের অলিখিত নিমন্ত্রণে পায়ের কাছে ল্যাঞ্জা খাড়া করে বলতো-ম্যাঁও
মাঝে মাঝেই মায়ের শুনতাম গা গুলাতো মাছ যেতো নচ্ছাড়টার পাতে_ সুপারির আবাদ
টিনের চালাতে লুকিয়ে থাকা মিষ্টিকুমড়া বা ঝুলন্ত একটা চালকুমড়া যেন- ঠাওর হয় না ঠিক, 
পাশে একটা পুঁই মাচাঙতার পাশে দাদার লাগানো একটা মস্ত কাঁঠাল গাছ
আজকাল কাঁঠাল কেউ আর খায় না শুনেছি, আমারো তো বাঁধে কতশত পেটের ব্যামো;
মুড়ি কিংবা পানতার সাথে একরাজ্য ঘুম_কে জানে কাঁঠাল খাওয়া হয় না বলেই হয়তো এখন আর ঘুম আসে নাকাঁঠাল কিংবা পানতা? ঠিক কোনটা খেলে সে ঘুম ফিরে আসবে 
আমি যে কাকে সুধাই?
শুধু শুধু পোশাকে চেতনা নিয়ে কেন আসো ডিসেম্বর? সবুজ নয়, সব ঢেকে দাও ধোঁয়াতে-কালোতে
ডিসেম্বর এলে অযথাই আমার আকাঙ্ক্ষার শাড়িটার কথা মনে পরে নিরর্থক স্বপ্নে লাল বৌ সবুজ ডুরে তাঁত শাড়ি লেপ্টে মুচকি হাসে আমাকে দেখে করাতের শব্দে শাড়িটাকে কেটে ফালি ফালি করে দেয় প্রতিনিয়ত পরা হয়ে ওঠে না আর কোনো ডিসেম্বরেই! 
ডিসেম্বর ঢেকে গেছে সবুজ বসনে!


এ জাতীয় আরো খবর