বনানী (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ
রাজধানীর বনানীতে বিশেষ নিবন্ধনবিহীন প্যাডেল চালিত রিকশা চলাচল যেখানে নিষিদ্ধ সেখানে এখন অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। চালকরা কারো তোয়াক্কা না করে অবাধেই ঢুকে পড়ছে বনানী আবাসিক এলাকার রাস্তায়। দেখা যায়, তাদের কেউ বাধাও দিচ্ছে না, নিয়ন্ত্রণও করছে না। ফলে বনানী এলাকার নিরাপত্তা হুমকির মুখে। তাহলে এতো নিয়মনীতি করে লাভ কি হলো এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর বনানী, গুলশান, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় রিকশা ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাস দেড়েক পরই আবার তা চালু হয়। তবে কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে সিটি করপোরেশন ওই এলাকায় রিকশার সংখ্যা নির্ধারিত করে দেয়। এরপর গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতনের বাসিন্দাদের সংগঠন বা সোসাইটি সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন বা লাইসেন্স (ব্লু-বুক) আছে, শুধু এমন রিকশাকে তাদের নিজস্ব নিবন্ধনের আওতায় এনে চলাচলের অনুমতি দেয়। রিকশাগুলোকে একটি নম্বরপ্লেট দেওয়া হয়, যা রিকশার সামনে টাঙিয়ে রাখতে হয়। এ ছাড়া রিকশাচালকদের পরিচয়পত্র রয়েছে এবং তাঁদের বিশেষ কটি পরতে হয়। এই নিবন্ধন নিয়েও মোটা অংকের টাকা আদায়ের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
কয়েকজন মালিক জানান, বনানী-গুলশান এলাকায় শুধু বিশেষ নাম্বার প্লেট পেতে একটি রিকশার জন্য খরচ করতে হয় পঞ্চাশ থেকে একলাখ টাকা। অবশ্য সোসাইটি থেকে বলা হয় তারা কোনো টাকা নেয়না। তবে বছরে একবার চালকের কটি, নম্বরপ্লেট ও ভাড়ার তালিকা টানানোর জন্য সোসাইটিভেদে এক থেকে দুই হাজার টাকা নেওয়া হয়।
জানা গেছে, এতদিন শুধু সোসাইটি ও সিটি করপোরেশনের বিশেষ নিবন্ধন আছে এমন রিকশাই বনানীতে চলতে পারতো। মাঝে মাঝে বনানী সোসাইটি অভিযান পরিচালনা করতো। অভিযানে নিবন্ধনবিহীন রিকশা পেলে আটক করা হতো। কিন্তু এখন সেই অভিযান মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বনানীর রাস্তায় এখন নিবন্ধনবিহীন প্যাডেল চালিত রিকশার পাশাপাশি অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। এসব অটোরিকশা চালকরা অত্যান্ত বেপরোয়া। তাদের বেপরোয়া চালনার কারনে পথচারীদের থাকতে হয় ঝুঁকির মধ্যে। অটোরিকশা চালকদের বেপরোয়া চালনার কারনে রাস্তা পার হওয়া মুশকিল হয়ে যায়, রাস্তা পার হতে গেলে হুট করে রিকশা এসে শরীরের উপর উঠিয়ে দেওয়ার উপক্রম হয়। এছাড়া এসব রিকশা গিলে খাচ্ছে কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ।
স্থানীয়রা বলেন, হটাৎ করেই বনানী সোসাইটির চোখ যেন বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে তাদের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই!
শনিবার (২৫ নভেম্বর) মহাখালী ওয়্যারলেস গেইট মোড় থেকে একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালককে বনানী বাজার নিয়ে যেতে পারবে কিনা জানতে চাইলে সে বলে, উঠেন। তাকে প্রশ্ন করা হলো, ১ নম্বর গেইটে নামিয়ে দিবে নাতো? সে বলল না উঠেন বনানী বাজার যেতে পারবো। পরে চল্লিশ টাকা ভাড়ায় বনানী বাজার নিয়ে গেল।
রিকশা চালককে প্রশ্ন করা হয়, আগে তো বিশেষ নাম্বার প্লেট ছাড়া বনানীতে রিকশা ঢুকতে দেওয়া হতো না, ১ নাম্বার রোড গেইটে আটকে দিতো। এখন যেতে দেয় কিভাবে? রিকশা চালক জানায়, 'এর জন্য রিকশা মালিক একটি বিশেষ মহলকে চাঁদা দেয়। আবার মাঝে মাঝে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে আটক করলেও পরে আবার ছেড়ে দেয়।'
তবে বনানী সোসাইটি থেকে জানা যায়, অন্য এলাকার রিকশার গুলশান-বনানীতে ঢোকার সুযোগ নেই। প্রতিটি মোড়ে সোসাইটির নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।