মৎস ঘের সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মো. কালাম শেখ(৫৫)কে হত্যা করা হতে পারে এমনটাই জানিয়েছে নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সুত্র। নিহত মো. কালাম শেখকে আড়ংঘাটা থানাধিন তেলিগাতী বাইপাসের একটি মৎস ঘেরের মধ্যে গলাকেটে হত্যা করে কোচুরিপানার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারী। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আসলাম শেখ বাদী হয়ে তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামী করে আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেছে(মামলা নং- ৭, তাং -২২/১০/২৩)। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনার পরপরই আইন শৃংখলা বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনার মোটিভ উদঘাটনে এবং হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাঁচ ঘন্টার মধ্যে মামলার অভিযুক্ত আসামী মো. মজনু শেখ(৩৫) এবং তার পিতা ওমর শেখ(৬৫)কে আইন শৃংখলা বাহিনী আটক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে। এজাহার ভুক্ত অপর আসামী তেলিগাতী রাজাপুরের আক্কাস মোল্যার পুত্র জিয়া মোল্যা(৩৫) পলাতক রয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবার নিহত কালাম শেখের ময়নাতদন্ত এবং জানাযা শেষে পারিবারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
তেলিগাতী মধ্যপাড়ার গহর শেখের পুত্র বিলডাকাতিয়ার ঘের ব্যবসায়ী মো. কালাম শেখকে গত ২২ অক্টোবর রবিবার অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে নৃশংস ভাবে হত্যা করে বাইপাসের মহসিন মোড়লের মাছের ঘেরের কোচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেয়। নিহতের ভাই মফিজ শেখ জানায়, তার ভাইয়ের সাথে পার্শবির্তি ঘের মালিকের সাথে দীীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সম্প্রাতি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বর কাজী শহিদুল ইসলাম পিটো উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাঝোতা বৈঠক করে। গত কয়েকদিন পুনরায় মাছের ঘেওে মাছ ধরার চারোপাটা পাতাকে কেন্দ্র করে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। মামলার বাদী নিহতের ভাই আসলাম শেখ জানায়, মৎস ঘেরের ভেড়ি এবং মাছ ধরার চারুপাটা পাতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের পার্শবর্তি ঘের মালিক পরষ্পর যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে কালামকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনি পার্শবর্তি ঘের মালিক তেলিগাতী মধ্যপাড়ার ওমর শেখের পুত্র মজনু শেখ(৩৫), তার পিতা ওমর শেখ(৬৫) এবং তেলিগাতী রাজাপুরের আক্কাস মোল্যার পুত্র জিয়া মোল্যা(৩৫) এর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ২/৩জনকে আসামী করে আড়ংঘাটা থানায় মামলা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পিটো বলেন, বাইপাসের মৎস ঘেরের ভেড়ী এবং মাছ ধরার চারুপাটাকে কেন্দ্র করে নিহত কালাম শেখের সাথে ওমর আলী শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে গত এক/দুই মাস আগে স্থানীয় ভাবে বসাবসি করে মিমাংশা করে দেওয়া হয়। তিনি জানায় হত্যাকান্ডের বিষয়ে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ কাজ করছে দ্রুত হত্যাকান্ডের মুল রহস্য বেরিয়ে আসবে। মামলার পরপরই আড়ংঘাটা থানা পুলিশ সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর একাধিক টিম হত্যাকারীদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মো. মজনু শেখকে ব্যাব-৬ এর অভিযানিক টিম রাতে তার কর্মস্থল থেকে এবং তার পিতা ওমর শেখকে তেলিগাতী থেকে আড়ংঘাটা থানা পুলিশ আটক করে বলে একাধিক সুত্রে জানাগেছে।
আড়ংঘাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানায়, হত্যাকান্ডের পরপরই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামী মজনু শেখ ও তার পিতা ওমর শেখকে আটক করা হয়। তিনি জানায়, দ্রট্টু সময়ের মধ্যে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মচোন করে প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের সম্মুখিন করা হবে।
এদিকে নিহত আবুল কালাম আজাদের মরদেহ গতকাল সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আছরবাদ তেলিগাতী মধ্যপাড়া ক্লাব মোড়ে নিহতের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাযায় উপস্থিত এলাকাবাসী নৃশংস এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবী জানায়। একই সাথে এলাকার নিরিহ ব্যক্তিরা যাতে কোন প্রকার হয়রানির স্বীকার না হয় সে বিষয়টিও আইন শৃংখলা বাহিনীকে নজর রাখার আহবান জানান।
উল্লেখ্য ২২ অক্টোবর রবিবার সকালে আবুল কালাম আজাদ বাসা থেকে তেলিগাতী বাইপাসের মৎস ঘেরের উদ্দেশ্যে বের হয়। দুপুরে বাসায় না যাওয়ায় স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খুজাখুজির এক পর্যায়ে বিকাল ৫টার দিকে বাইপাসের মহসিন মোড়লের মাছের ঘের থেকে তার ক্ষতবিক্ষত গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।