শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬

মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে কমরেড আবদুস সাত্তার খানের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে

  • পলাশ হোসেন
  • ২০২৬-১১-০৫ ২১:২৭:২৮

প্রখ্যাত কৃষক নেতা, বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, ভূমি আন্দোলনের পথিকৃৎ ও গণবুদ্ধিজীবী কমরেড আবদুস সাত্তার খানের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভাটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান।
স্মরণসভায় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এএএম ফয়েজ হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক রুহুল আমিন, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভানেত্রী লাভলী ইয়াসমিন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সহসভাপতি রেহেনা বেগম, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ভাসমান নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহানারা বেগম, পটুয়াখালী জেলার কৃষক নেতা কায়েস মাহমুদ এবং নেত্রকোনা জেলার নেত্রী ও বাংলাদেশ কিষাণী সভার কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক আশা মণি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কমরেড আবদুস সাত্তার খান ছিলেন এ দেশের শোষিত, বঞ্চিত, ভূমিহীন কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক আপসহীন সংগ্রামী নেতা। কৃষকের জমির অধিকার, খাসজমি ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন, কৃষকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের সংগ্রামে তিনি আজীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দূরদর্শিতা ও গণমানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
বক্তারা আরও বলেন, কমরেড আবদুস সাত্তার খান শুধু একজন কৃষক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন কৃষক-শ্রমিকের ঐক্য ও সংহতির প্রবক্তা। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম বর্তমান প্রজন্মের কৃষক, শ্রমিক, নারী ও মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আজও প্রেরণা জোগায়। তাঁর অসমাপ্ত সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়াই হবে তাঁর প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন।
স্মরণসভা উপলক্ষে আয়োজিত ব্যানারে কমরেড আবদুস সাত্তার খানকে অভিহিত করা হয়—“প্রখ্যাত কৃষক নেতা, বাংলাদেশের কৃষক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, ভূমি আন্দোলনের পথিকৃৎ ও গণবুদ্ধিজীবী কমরেড আবদুস সাত্তার খান (১৯২৩–১৯৯৬)” হিসেবে। ব্যানারে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে তাঁর অবদানকে স্মরণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড বদরুল আলম বলেন, কমরেড আবদুস সাত্তার খানের আদর্শ, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংগ্রামী চেতনা ধারণ করে ভূমিহীন কৃষকের ভূমির অধিকার, কৃষকের ন্যায্য অধিকার, খাদ্য সার্বভৌমত্ব এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাঁর দেখানো পথে কৃষক-শ্রমিকের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
স্মরণসভায় বক্তারা কমরেড আবদুস সাত্তার খানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁর বিপ্লবী ও সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
 

 


এ জাতীয় আরো খবর