বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬

আইন অমান্যের সংস্কৃতি বদলাতে হবে,আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর পুলিশ: ওসি আব্দুস সুলতান

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৬-১১-০৫ ২০:৫৩:২৪

মহেশখালী (কক্সবাজার)
রাষ্ট্রের উন্নয়ন  শুধু বড় বড় অবকাঠামো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা আধুনিক নগরায়ণের ওপর নির্ভর করে না;  একটি সভ্য  ও  উন্নত  রাষ্ট্রের  প্রকৃত ভিত্তি হলো আইনের শাসন,নাগরিকের দায়িত্ববোধ এবং আইনের প্রতি  সর্বস্তরের  মানুষের  শ্রদ্ধাশীল মনোভাব। বিশ্বের উন্নত  দেশগুলোতে  নাগরিকরা  যেমন আইনকে ভয় করেন,তেমনি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে  আইনকে  সম্মান  করে   স্বতঃস্ফূর্তভাবে  মেনে চলেন।অথচ বাংলাদেশে এখনো আইন অমান্য করার প্রবণতা,  অপরাধীদের   আশ্রয়-প্রশ্রয়   এবং   আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। এমন বাস্তবতায় অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা  নিশ্চিত করতে  পুলিশকে  অনেক  সময়  কঠোরভাবে  আইন প্রয়োগ করতে  হয়  বলে  মন্তব্য করেছেন- মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ আব্দুস সুলতান।
তিনি  বলেন ,“যদি   আমরা  আইন  প্রয়োগ  না  করি, তাহলে  দেশের  পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।” তাঁর এই বক্তব্যের  মধ্য  দিয়ে  আইনশৃঙ্খলা  রক্ষায়   পুলিশের দায়িত্ব,অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাস্তবতা  এবং নাগরিকদের আইন   মেনে   চলার    প্রয়োজনীয়তা    নতুন    করে আলোচনায় এসেছে।
সাংবাদিকদের  উদ্দেশে  ওসি  আব্দুস  সুলতান বলেন, মহেশখালী থানা পুলিশ  যখন কোনো অন্যায়,অপরাধ কিংবা  অপরাধমূলক  কর্মকাণ্ডের  বিরুদ্ধে  আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ  করে  অথবা  অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার   করে, তখন  অনেক  সময় সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের কাছ  থেকেই  পুলিশকে বিরূপ মন্তব্য ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী,অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশকে  নানা  ধরনের চাপ, সমালোচনা ও  প্রতিকূল  পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। কোনো অপরাধীর   বিরুদ্ধে   ব্যবস্থা   নিলে   তার  স্বজন   বা সমর্থকদের  অসন্তোষ  তৈরি  হয়। আবার  অপরাধের শিকার পক্ষের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না হলে   পুলিশের   সমালোচনা  করা  হয়।  ফলে দায়িত্ব পালন  করতে  গিয়ে  পুলিশকে  অনেক  সময় জটিল পরিস্থিতির   মুখোমুখি   হতে   হয়।  আইনের   শাসন প্রতিষ্ঠায়   নাগরিকের  দায়িত্বও   গুরুত্বপূর্ণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কেবল পুলিশের একক দায়িত্ব নয়;বরং রাষ্ট্রের  প্রতিটি   নাগরিক, জনপ্রতিনিধি,  রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামাজিক  সংগঠন  এবং প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব। 
অপরাধীদের   সামাজিক ভাবে  প্রশ্রয়  দেওয়া  কিংবা অপরাধের  বিরুদ্ধে  আইনগত  পদক্ষেপকে  ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে উপস্থাপন করা এসব প্রবণতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে।একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার  প্রতিটি  পদক্ষেপ হতে হবে আইন সম্মত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ  ও  জবাবদিহিমূলক।  অপরাধী যে-ই হোক,  তার  পরিচয়  কিংবা  প্রভাব  বিবেচনা না করে যথাযথ  আইনি প্রক্রিয়ায়  ব্যবস্থা  গ্রহণের  পাশা পাশি  নিরপরাধ  ব্যক্তির  অধিকার  ও   মর্যাদা রক্ষাও নিশ্চিত  করতে   হবে। মহেশখালীর  বাস্তবতায় আইন মানার  সংস্কৃতির  প্রয়োজন,  মহেশখালীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি,   নগরায়ণ,  অর্থনৈতিক  কর্মকাণ্ডের  সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা  রক্ষার  গুরুত্ব  ক্রমেই  বাড়ছে। এমন বাস্তবতায়  অপরাধ  প্রতিরোধ, মাদক  ও  সন্ত্রাস দমন, গ্রেপ্তারি  পরোয়ানা   তামিল, জনসাধারণের  নিরাপত্তা এবং   শান্তিপূর্ণ   সামাজিক  পরিবেশ  বজায়  রাখতে পুলিশের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শুধু অভিযান, গ্রেপ্তার কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। অপরাধ  সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধ, স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি, জনগণের  সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক, সামাজিক   সচেতনতা   এবং  অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণভিত্তিক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আইন প্রয়োগে কঠোরতা এবং মানবিক আচরণ দুটির মধ্যে  ভারসাম্য  বজায়  রাখাই আধুনিক পুলিশিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পুলিশ জনগণের প্রতিপক্ষ নয়; বরং জনগণের   জানমাল, নিরাপত্তা  ও  অধিকার  রক্ষায় নিয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।তাই পুলিশের প্রতি নাগরিকদের   সহযোগিতা   যেমন  প্রয়োজন,  তেমনি পুলিশের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিও অপরিহার্য। ওসি মোঃ আব্দুস সুলতানের বক্তব্যের  মূল  তাৎপর্য হলো  আইন অমান্য করে কেউ যেন পার  পেয়ে  যাওয়ার  সুযোগ না পায় এবং আইন প্রয়োগ  করতে  গিয়ে  পুলিশও  যেন  কোনো  ধরনের পক্ষপাত  বা  ক্ষমতার  অপব্যবহারের সুযোগ না নেয়।
একটি  নিরাপদ, সুশৃঙ্খল  ও  অপরাধমুক্ত মহেশখালী গড়ে তুলতে পুলিশ  ও  জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও  জোরদার  করার পাশাপাশি সবার মধ্যে আইন মানার  মানসিকতা  তৈরি করতে হবে। কারণ আইনের শাসন  প্রতিষ্ঠিত  হলে  অপরাধী  নয়, নিরাপদ থাকবে সাধারণ মানুষ; শক্তিশালী হবে রাষ্ট্র এবং এগিয়ে যাবে দেশ।


এ জাতীয় আরো খবর