বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

গার্মেন্টস শিল্পে মজুরী বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ভাংচুর,অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • আরবিন্দু বেপারী বিন্দু
  • ২০২৬-১০-২৯ ১৩:৪৭:১৯

গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে মজুরী বোর্ড পূর্ণগঠন ও মঞ্জুরী বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবীতে অদ্য ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ মির্জা আল শামীম এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ এর আরএমজি সেক্টরে প্রতিনিধিত্বকারী শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, মোহাম্মাদ মোস্তফা, সাধারন সম্পাদক কেন্দ্রীয় কমিটি, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, অরবিন্দু বেপারী (বিন্দু), সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটি, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, আমীর হামজা খান, সাধারন সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশন প্রমুখ।
গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবী তুলে ধরেছেন শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়ন, নারী শ্রমিকদের মাতৃকালীন ছুটি ০৬ মাস, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ কর্মসংস্থান, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক কলোনী, শিল্পাঞ্চল গুলোতে হাসপাতাল ইত্যাদি।
ইতিমধ্যে আমাদের দাবীর প্রেক্ষিতে এবং শ্রমিকের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে সরকার শ্রম আইনে সংশোধন এনেছে তাহার মধ্যে অন্যতম ৩বৎসর পর পর মজুরী বোর্ড গঠন করার, যা আগে ছিল ৫ বছর পর পর। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শ্রমজিবী মানুষের স্বস্তি ফিরেছিল যে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছে, এবার শ্রমিকেরা মাথা উচু করে বাচতে পারবে এবার শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন হবে ইনশাল্লাহ। সরকারের শ্রমিক বান্ধব মনোভাবে শ্রম আইনে সংশোধন এনে ৩বৎসর পর পর মজুরী বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্তের পর বেশিরভাগ শ্রমিক সংগঠন নিম্নতম মজুরী বোর্ড বরাবর শ্রম মন্ত্রী বরাবর, শ্রম সচিব বরাবর, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর মজুরী বোর্ড লিখিত চিঠি প্রদান করেন। তাহার পেক্ষীতে শ্রম মন্ত্রী মহোদয় অক্টোবর ২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে মজুরী বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন কারেন। শ্রম মন্ত্রনালয় যে মজুরী বোর্ড গঠন করতে চলেছে সরকার তা দৃশ্যমান, মজুরী বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়ার চিঠি গনমাধ্যমে দেখা গেছে।
ইতিমধ্যে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এর সভাপতি ইন্ডিয়াতে পলাতক শেখ হাসিনা মিডিয়ার মাধ্যমে ঘোষনা দিয়েছেন ডিসেম্বরে ২০২৬ ইং দেশে ফিরবেন তাহার দলের নেতা কর্মিদের একত্র হওয়ার ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ঘোষনা দেন। ডিসেম্বর মাসে পলাতক শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন দিগুণ বৃদ্ধি হবে বলে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর যে চক্রান্ত সেটি বাস্তবায়ণ করতে এবং মজুরি বোর্ড পূর্নগঠন ও মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে আরো বেশি জোরদার করার মধ্য দিয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করার সকল প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগ সমর্থিত ও তাদের রাজনৈতিক শরীক দলের ও গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনগুলো অন্যান্য সকল সময়ের চেয়ে অধিক জোরালো ভূমিকা পালন করছে।
সরকারের শ্রমিক বান্ধব মনোভাবে শ্রম আইনে সংশোধন এনে ৩ বৎসর পর পর মজুরী বোর্ড গঠন করার সিদ্ধান্তে ৩ বৎসর শেষ হবে ডিসেম্বর২০২৬ ইং তারিখে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে আমরা গাজীপুর শিপাথঞ্চলের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়িতে বহিরাগত লোকজন লাঠিসোডা হাতে নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে এবং বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে অন্য শ্রমিকদের কারখানা থেকে বাহির করে রাস্তা অবরোধ করার উদ্দেশ্যে, রাস্তা অবরোধের নামে সাধারন মানুষকে ভয়-ভীতি ও কারখানা ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্যের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করার জোড় দাবী জানাচ্ছি। মজুরী বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলমান এর মধ্যেই এমন সহিংশতা যেমন দেশকে অস্থিতিশীল করবে ঠিক তেমনি শ্রমিক কাঙ্খিত যে মজুরী ঘোষনা করতে চলেছে সরকার তা বাধাগ্রস্ত করবে। আমরা এমন হামলা ও সহিংসতার তীব নিন্দা জ্ঞাপন করছি সেই সাথে যড়যন্ত্রকারী ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোড় দাবী জানাচ্ছি।

 


এ জাতীয় আরো খবর