মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬

সত্তর পেরিয়ে রফিকুর রশীদ: জীবননাট্যের মঞ্চে এখনো নতুন দৃশ্য

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-২৮ ২০:৪৮:৪৮

এ নাটকের সূচনা ১৯৫৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। মেহেরপুরের গাংনী থেকে শুরু হওয়া সেই জীবননাট্যের মঞ্চে একে একে বদলেছে দৃশ্য, চরিত্র, সময় ও দর্শক। কেউ এসেছেন পাশে দাঁড়াতে, কেউ করতালি দিতে, কেউবা দূর থেকে শুনিয়েছেন বাঁশির সুর। আর সেই সুরের ভেতর দিয়েই সাত দশক পার করলেন কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশীদ।
গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর ৭০তম জন্মদিন। জন্মদিনের এই বিশেষ পর্বে নিজের জীবনকে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানিয়েছেন, যারা ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও সঙ্গ নিয়ে তাঁর এই দীর্ঘ পথচলায় যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
রফিকুর রশীদের সাহিত্যযাত্রা শুরু হয়েছিল ছড়া ও কিশোরকবিতা দিয়ে। পরে গল্প ও উপন্যাস হয়ে কথাসাহিত্য তাঁর প্রধান সৃষ্টিক্ষেত্রে পরিণত হয়। বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্যও লিখেছেন সমান নিষ্ঠায়। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, লোকসংস্কৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের জীবন তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক; এর মধ্যে শিশুসাহিত্য, কথাসাহিত্য ও ইতিহাসভিত্তিক গবেষণার বই রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর কর্মজীবনে অধ্যাপনাকে বেছে নেন তিনি। দীর্ঘদিন মেহেরপুরের গাংনী কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি শিক্ষকতার এই দীর্ঘ পর্বও তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
রফিকুর রশীদের লেখার আরেকটি বড় ক্ষেত্র শিশুসাহিত্য। তাঁর বহু বইয়ে শিশু-কিশোরদের কৌতূহল, ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উঠে এসেছে। প্রকাশিত শতাধিক গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বই শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা।
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে স্বীকৃতিও এসেছে বহুবার। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, অরণি সাহিত্য পুরস্কার, সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, অধ্যাপক খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কার, কাঙাল হরিনাথ পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২০২১ সালে শিশুসাহিত্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
তবে পুরস্কার কিংবা শতাধিক বইয়ের সংখ্যা দিয়ে রফিকুর রশীদের সাহিত্যজীবনের পুরো বিস্তার মাপা যায় না। তাঁর দীর্ঘ পথচলায় গল্পের মানুষ, ছোটদের স্বপ্ন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ইতিহাসের অনুষঙ্গ এবং মাটির কাছাকাছি থাকা জীবনের নানা রং বারবার ফিরে এসেছে। এ কারণেই তাঁর সৃষ্টির পাঠকও শুধু একটি বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
সত্তরতম জন্মদিনে তাই তাঁর নিজের কথাই যেন সবচেয়ে বেশি তাৎপর্য বহন করে—জীবননাট্যের মঞ্চে পর্দা নামার আগ পর্যন্ত ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা নিয়ে সবাই পাশে থাকুন। সাত দশকের এই মঞ্চে রফিকুর রশীদের কলম এখনো থামেনি; বরং নতুন কোনো দৃশ্যের অপেক্ষায় যেন পর্দার আড়ালে প্রস্তুত হচ্ছে আরেকটি গল্প।


এ জাতীয় আরো খবর