রক্তের রঙ এক-
তবু মানুষ পরিচয়ের জন্য
কত রঙের দেয়াল তোলে!
একজনের নামের পাশে
বংশের গর্ব,
অন্যজনের পাশে
দারিদ্র্যের দীর্ঘ ছায়া।
কেউ জন্মেই পায়
বড় ঘরের দরজা,
কেউ সারাজীবন
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে
নিজের যোগ্যতা বোঝায়।
কেউ ধর্ম নিয়ে গর্ব করে,
কেউ ভাষা নিয়ে,
কেউ পদবি নিয়ে-
অথচ মৃত্যুর মুখে
সব পরিচয় কত আশ্চর্যভাবে
সমান হয়ে যায়।
আমি দেখেছি,
ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে
ভাতের কোনো জাত নেই;
রক্তের প্রয়োজন হলে
দাতার পরিচয়ও কেউ জিজ্ঞেস করে না।
একজন পথশিশুর হাসি
কোনো রাজপ্রাসাদের চেয়ে ছোট নয়,
একজন শ্রমিকের ঘাম
কোনো সনদের চেয়ে কম পবিত্র নয়।
তবু আমরা মানুষকে মাপি
তার পোশাক, বাড়ি, ভাষা, পদে-
যেন আত্মারও কোনো
পরিচয়পত্র লাগে।
কখনো যদি সত্যিই
নিজেকে মানুষ বলতে চাই,
তবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
নিজের পদবি নয়,
নিজের আচরণটা পড়তে হবে।
কারণ জন্ম আমাদের পরিচয় দেয়,
কিন্তু মানুষ হওয়া-
সেটা প্রতিদিন
নিজের হাতে লিখতে হয়।