শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬

জিপিটি-৫.৬ উন্মুক্ত করছে ওপেনএআই,শক্তিশালী এআই মডেল ঘিরে নিরাপত্তা বিতর্ক

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-০৯ ১১:২০:১৮

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগে আরেকটি বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী এআই মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’ সিরিজ বৃহস্পতিবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে এ মডেল ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিপিটি-৫.৬ সিরিজের পাশাপাশি অ্যানথ্রপিকের ‘মিথোস’ সিরিজের মতো উন্নত মডেলগুলো সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্তে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করায় গবেষকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব প্রযুক্তি অপব্যবহার করলে সাইবার হামলার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
এমন উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গত জুনের শেষ দিকে ওপেনএআই জানায়,ওয়াশিংটনের অনুরোধে জিপিটি-৫.৬-এর প্রিভিউ সংস্করণ সীমিত সংখ্যক বিশ্বস্ত মার্কিন অংশীদারের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল।
জিপিটি-৫.৬ সিরিজে তিনটি পৃথক মডেল থাকছে। এর মধ্যে ‘সোল’ সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্ল্যাগশিপ সংস্করণ, ‘টেরা’ দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ মডেল এবং ‘লুনা’ দ্রুতগতির ও তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল সংস্করণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় ওপেনএআই জানায়,বৃহস্পতিবার থেকেই ‘সোল’, ‘টেরা’ ও ‘লুনা’-তিনটি মডেলই সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রিভিউ সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর ট্রাম্প প্রশাসন জিপিটি-৫.৬ ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, এটি সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নয়; বরং ওপেনএআই স্বেচ্ছায় তাদের মডেল মূল্যায়নের জন্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল।
এদিকে উন্নত এআই প্রযুক্তি বাজারে ছাড়ার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরেও মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষ উদ্ভাবনের গতি ধরে রাখতে কম নিয়ন্ত্রণের পক্ষে, অন্য পক্ষ জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছে।
একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রপিকও। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জানিয়েছে, সরকারের বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর তাদের ‘ফেবল-৫’ ও ‘মিথোস-৫’ মডেলের ব্যবহার ধাপে ধাপে পুনরায় চালু করা হবে।
ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, ‘টেরা’ মডেলের ব্যবহারমূল্য জিপিটি-৫.৫-এর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। অ্যানথ্রপিক ও গুগলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ব্যবহারকারী ধরে রাখার কৌশল হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক-উভয় প্রতিষ্ঠানই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) জন্য গোপন নথি জমা দিয়েছে। প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যায়নের লক্ষ্য নিয়ে শেয়ারবাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি, যা বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

ওপেনএআই, জিপিটি-৫.৬, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা


এ জাতীয় আরো খবর