মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬

হালান্ডের জোড়া আঘাতে ব্রাজিল বিদায়,ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-০৬ ১০:০১:২৮
ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্বকাপে বড় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ইউরোপের দলটি। অন্যদিকে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম শেষ ষোলোর বাধা টপকাতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নরওয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক ওরলান নাইল্যান্ড। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে তিনি ব্রাজিলকে বড় ধাক্কা দেন। পুরো ম্যাচজুড়েই একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন এই গোলরক্ষক।
ম্যাচের শেষ ভাগে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখান আর্লিং হালান্ড। ৭৯তম মিনিটে দারুণ এক হেডে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে শক্তিশালী শটে দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত করেন নরওয়েজিয়ান এই তারকা।
যোগ করা সময়ে ক্যাসেমিরো আদায় করা পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল শোধ করলেও তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।
এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত। সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন।
২৪ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়ে অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দিয়েছিল ব্রাজিল। তবে তাঁর অধীনেও হতাশাই সঙ্গী হলো সেলেসাওদের। টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হলো ব্রাজিলকে।
এছাড়া ৩৬ বছর পর আবারও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হলো দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এর আগে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে একই পর্যায়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা।
ম্যাচের শুরুতেই নরওয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল। তৃতীয় মিনিটে প্যাট্রিক বার্গ বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এরপর বক্সের মধ্যে ম্যাথিয়াস কুনহাকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু ১৪তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের স্পট কিক অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন নাইল্যান্ড।
পেনাল্টি মিসের পরও একাধিক সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলির বাড়ানো বল থেকে গিমারায়েস আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। অন্যদিকে প্রথমার্ধে গোল করতে না পারলেও হালান্ডের উপস্থিতি সবসময়ই ব্রাজিলের রক্ষণকে চাপে রেখেছিল।
বিরতির পর কৌশলগত পরিবর্তন আনে দুই দলই। নরওয়ের কোচ স্টলে সোলবাকেন বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনেন। ব্রাজিলের কোচ আনচেলত্তিও এনদ্রিককে মাঠে নামান। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুসের চমৎকার পাস থেকে একক সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। এরপরও রায়ান ও গিমারায়েসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে ব্রাজিলকে হতাশ করেন নাইল্যান্ড।
৬৭তম মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নরওয়ের হাতে। ৭৯তম মিনিটে হালান্ডের হেডে এগিয়ে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে তাঁর দ্বিতীয় গোলেই নিশ্চিত হয় নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়।
এখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নামবে নরওয়ে। আর শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন ভেঙে হতাশা নিয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে ব্রাজিলকে।

নরওয়ে, হালান্ড, ব্রাজিল


এ জাতীয় আরো খবর