শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬

জুলাই-সেপ্টেম্বরে শক্তিশালী হবে এল নিনো,চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-০৩ ২০:১৬:৪১

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, তাপপ্রবাহসহ নানা ধরনের চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ডব্লিউএমওর সর্বশেষ ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, এল নিনো ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি দ্রুত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যার সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ধরণ এবং আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এ ঘটনা ঘটে এবং প্রায় নয় থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়।
ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনোকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অতি শক্তিশালী-এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এটি ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বিশ্বের প্রধান জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মডেল বিশ্লেষণে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অঞ্চলে মৌসুমি গড় তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে।
ডব্লিউএমওর মতে, বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেলে উল্লেখযোগ্য মিল থাকায় এই পূর্বাভাসের নির্ভরযোগ্যতা অনেক বেশি। উত্তর গোলার্ধের শরৎকাল পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সময়ে নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সর্বশেষ এল নিনো ২০২৩ সালকে রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর এবং ২০২৪ সালকে শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি গড় তাপমাত্রাসহ ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো পরিস্থিতি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, ভারী বৃষ্টিপাত, স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
তিনি বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং কার্যকর মৌসুমি পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা জোরদার করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এতে প্রাণহানি কমানোর পাশাপাশি অর্থনীতি ও জনজীবনের ক্ষতিও সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

এল নিনো, জলবায়ু, তাপপ্রবাহ


এ জাতীয় আরো খবর