কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রামে ইএসডিও নামক একটি এনজিও ঋণের কিস্তির টাকা দিতে না পারায় এক অসহায় গৃহবধুকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এনজিও কার্যালয়ে আটক রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধু মৃত্যু ঝুঁকি থেকে অবশেষে বেঁচে গেছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, গতকাল ৩০ জুন মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম শহরের গড়েরপাড় এলাকার এক গৃহবধূর সাথে এধরণের ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গৃহবধু পরিবারের লোকজন জানায়, ওই গৃহবধু
ইএসডিও থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং নিয়মিত মাসিক কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। পারিবারিক সংকটের কারণে চলতি মাসের ২০ হাজার টাকার কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে পারেননি। তবে গৃহবধু আগামী মাসে দুটি কিস্তি এক সঙ্গে পরিশোধ করতে চাইলে মাঠকর্মী বিষয়টি মানতে রাজী হননি। এই পরিস্তিতে মাঠকর্মী তার এরিয়া ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে সুকৌশলে ওই গৃহবধুকে অফিসে নিয়ে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আটক রাখেন। এতে ওই গৃহবধু মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েছেন এমন সংবাদ তার পাড়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কথা হয়,ওই এনজিও প্রতিষ্টান ইএসডিওর মাঠকর্মী মাসুদ রানার সাথে, তিনি জনান, দিনভর চেষ্টা করেও কিস্তির টাকা আদায় করতে না পেরে তিনি গৃহবধুকে কেন কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না, কী করতে চান বিষয়টি এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায়কে জানানোর অনুরোধ করেন।
পরে রাত ১০টার পর ওই গৃহবধু অফিসে আসেন এবং এরিয়া ম্যানেজারকে তার সমস্যার কথা জানিয়ে আগামীমাসে দুটি কিস্তি একসঙ্গে পরিশোধ করার অঙ্গিকার করলেও ওই গৃহবধুকে কিস্তি টাকা পরিশোধ না করলে অফিস থেকে বের হতে দেয়া হবে না জানালে ওই গৃহবধু প্রায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলার উপক্রম হন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ওই গৃহবধুর নিজগ্রামসহ শহরে সর্বত্র জানাজানি হলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া বলেন, "গভীর রাতে একজন নারীকে অফিসে আটকে রাখার খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায় ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'এনজিও কর্মীদের কাছে রাত-বিরাত বলে কিছু নেই। ভোর ৪টা হলেও টাকা আদায় করেই ছাড়ব।' পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ওই নারীকে সেখান থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়।"
তিনি আরও বলেন, "একজন মধ্যবয়সী নারীকে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঋণ আদায়ের নামে মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ মানবিক নয়। এনজিওগুলোর ঋণ আদায়ে আরও কার্যকর নীতিমালা ও তদারকি প্রয়োজন।"
ভুক্তভোগী নারী বলেন, "আমি পারিবারিক সমস্যার কারণে এই মাসের কিস্তি আগামী মাসে পরিশোধের অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা তা মানেনি। পরে মাঠকর্মী আমাকে অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়।
পরে সাংবাদিকদের ফোন পাওয়ার পর তারা আমাকে যেতে দেয়।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইএসডিওর এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, "ওই নারীকে আটকে রাখা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় অফিসে এসেছিলেন। তাকে জোর করে আনা বা আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।"
এনজিওর বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ এবং ঋণ আদায়ের এমন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সাথে কথা হলে তিনি জানান," বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে দেখবেন "।