শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

ভাইরাল ভিডিও নয়,চাই নিয়মিত নজরদারি: সড়কে ফিটনেসবিহীন যান ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থার দাবি

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৬-০৪ ২০:২৪:৪৪
ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর একটি জরাজীর্ণ মিনিবাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাসটির নিবন্ধন ও রুট পারমিট বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি অনেকের কাছে স্বস্তির হলেও এটি একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে-সড়কে এমন অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলছিল কীভাবে?
বাসটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বাস্তবতা হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগ পর্যন্ত যানটি নিয়মিত যাত্রী বহন করে সড়কে চলাচল করেছে। অর্থাৎ তদারকির যে দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর, সেটি কার্যকরভাবে পালিত হলে হয়তো জনসমালোচনার অপেক্ষা করতে হতো না।
বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন নতুন কোনো সমস্যা নয়। রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এমন বহু যান প্রতিদিন যাত্রী বহন করছে। অনেক ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে যানবাহনের অবস্থা এতটাই নাজুক থাকে যে সাধারণ মানুষও ঝুঁকিটি সহজেই বুঝতে পারেন। তবুও নানা কারণে এসব যান চলাচল অব্যাহত থাকে।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো যান্ত্রিক ত্রুটি। ব্রেক অকার্যকর, ক্ষতিগ্রস্ত বডি, দুর্বল চাকা কিংবা অকার্যকর সংকেত ব্যবস্থা যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে। তাই দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগাম উদ্যোগ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন হচ্ছে, একটি বাসের নিবন্ধন বাতিলের ঘটনা কি সামগ্রিক সমস্যার সমাধান? উত্তর হলো-না। কারণ সমস্যা ব্যক্তি বা একটি নির্দিষ্ট পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি ব্যবস্থাগত দুর্বলতার প্রতিফলন। প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং জবাবদিহিমূলক তদারকি।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু চালকের লাইসেন্স নয়, প্রতিটি যানবাহনের প্রকৃত ফিটনেসও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের দায়িত্বশীলতা বাড়াতে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। কোনো যানবাহন যদি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে,তবে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ অনেক অনিয়ম সামনে নিয়ে আসছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় তদারকি কখনোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর হতে পারে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেই নিতে হবে।
ভাইরাল হওয়া সেই মিনিবাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা একটি বার্তা দিয়েছে-অবহেলা করলে ছাড় নেই। এখন প্রয়োজন এই বার্তাকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে না রেখে নিয়মিত বাস্তবতায় পরিণত করা। তাহলেই নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক ব্যবস্থার দিকে আমরা এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারব।

লেখক: কলামিস্ট,সোস্যাল এক্টিভিস্ত,সাবেক মহাসচিব-নিরাপদ সড়ক চাই


এ জাতীয় আরো খবর