বুধবার, মে ২৭, ২০২৬

টুংটাং শব্দে মুখর কামারপল্লী

  • শিলা আক্তার
  • ২০২৬-০৫-২৬ ২২:৪৬:১৮

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
ঈদ কে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মির্জাপুর উপজেলার কামারপল্লীর কারিগররা। ঈদের আমেজে টুংটাং শব্দে মুখরিত কামারপল্লী যেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের এক চিরচেনা রূপ হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারদের কর্মশালা। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য ব্যবহৃত দা, চাকু, চাপাতি , ছুরি তৈরি এবং শান দেওয়ার কাজে এখন তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই।
মির্জাপুর উপজেলার সদর, পাকুল্যা, গোড়াই, জামুর্কী, ভাওড়া, মহেড়া, আজগানা, বাঁশতৈল, উয়ার্শী ও ভাতগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারের কামারপল্লীগুলোতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরি ধার করাতেও ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ।
কামাররা জানান, বছরের ১১ মাস কাজ কম থাকলেও কোরবানির ঈদের সময় তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন অনেকেই। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে আগের তুলনায় এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।
স্থানীয় এক কামার অবিনাশ সুত্রধর বলেন, “ঈদের আগে এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম। নতুন দা, চাপাতি বানানোর পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামে শান দেওয়া র কাজও বেশি থাকে। কষ্ট হলেও আয় ভালো হয়।”
কারিগররা বলেন, ছোট চাকুতে শান দিতে ৪০ টাকা, দা শান দিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চাপাতিতে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং বড় ছুরিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় এছাড়া নতুন সরঞ্জাম তৈরি করতেও ২০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।
 পৌরসভার কুতুবাজার বাজারের কামার বিমল সরকার জানান, এক সময় কামারপল্লীর কারিগরদের সারা বছর কাজ থাকলেও বর্তমানে প্রযুক্তির কারণে তাদের পেশা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তবে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই সময়ে ভালো আয় করতে পারি, যা দিয়ে বছরের বাকি সময়টুকু সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি।
 


এ জাতীয় আরো খবর