মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

ভোটের আগেই বিসিবিতে ‘নির্বাচিত’ অর্ধেক বোর্ড,প্রশ্নের মুখে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাস্তবতা

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৫-২৬ ১১:৩৮:১০

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আসন্ন নির্বাচনে ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই পরিচালক পদ নিশ্চিত হয়ে গেছে আটজনের। ফলে নির্বাচন ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে পর্দার আড়ালের সমীকরণ নিয়েই এখন বেশি আলোচনা চলছে ক্রিকেট অঙ্গনে। বিশেষ করে আঞ্চলিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাভিত্তিক ক্যাটেগরিতে অধিকাংশ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিযোগিতামূলক চরিত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, আঞ্চলিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটেগরি-১ থেকে সাতজন এবং সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ক্যাটেগরি-৩ থেকে একজন কোনো ভোট ছাড়াই পরিচালক হচ্ছেন। ফলে এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ক্লাবভিত্তিক ক্যাটেগরি-২ এ। এখানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বর্তমান অস্থায়ী কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল।
ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনের আগেই এতগুলো পদ নির্ধারিত হয়ে যাওয়া বোর্ড পরিচালনায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর শক্ত অবস্থানেরই ইঙ্গিত বহন করছে। কারণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কেউ মন্ত্রীর স্বজন, কেউ বড় রাজনৈতিক নেতার পরিবারের সদস্য, আবার কেউ সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত।
চট্টগ্রাম বিভাগে প্রার্থী প্রত্যাহারের পর সাবেক জাতীয় অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং লক্ষ্মীপুরের মঈন উদ্দিন চৌধুরীর পরিচালক হওয়া নিশ্চিত হয়। একইভাবে ঢাকা, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকেও কয়েকজন বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে ক্লাব ক্যাটেগরিতে এবার সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে। ১২টি পরিচালক পদের বিপরীতে লড়ছেন ১৬ জন প্রার্থী। আবাহনী, মোহামেডান, ওল্ড ডিওএইচএস, বসুন্ধরা রাইডার্সসহ দেশের পরিচিত ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেট প্রশাসনের কয়েকজন পরিচিত মুখও রয়েছেন এই তালিকায়।
নির্বাচনের পটভূমিও এবার বেশ আলোচিত। মাত্র আট মাস আগে নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন অস্থায়ী কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। আগের নির্বাচনে অনিয়ম, পক্ষপাত ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর নতুন কমিটির প্রধান করা হয় তামিম ইকবালকে এবং দ্রুত নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এবারও ভোটের আগেই বড় অংশের পরিচালক নির্ধারিত হয়ে যাওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ক্রিকেট প্রশাসনে গণতান্ত্রিক চর্চা আদৌ শক্তিশালী হচ্ছে কি না। ক্রিকেট সংগঠকদের একাংশের মতে, প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না থাকলে বোর্ড পরিচালনায় নতুন নেতৃত্ব ও নতুন চিন্তার প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। নির্বাচনের পর ২৫ পরিচালকের ভোটে ঠিক হবে নতুন সভাপতি। তবে এরই মধ্যে ক্রিকেটাঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে-এই নির্বাচন কি সত্যিকার অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, নাকি আগেভাগেই অনেক কিছু নির্ধারিত হয়ে গেছে?

কী-ওয়ার্ডস: বিসিবি নির্বাচন,তামিম ইকবাল,পরিচালক পদ

 


এ জাতীয় আরো খবর