বরগুনা প্রতিনিধি:
সৌদি প্রবাসী স্বামীর আকামার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য বরগুনায় শ্বশুর -শ্বাশুরী ও ননদের নির্যাতনে আহত কারিমা নামের এক গৃহবধুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনা আড়াইশ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের পুরাতন ব্লিডিং এর দ্বিতীয় তলায় মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে কারিমা নামের এক গৃহবধু হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে শারীরিক যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এবং মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। স্বজনরা জানান কারিমা নামের ঐ গৃহবধুর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ভর্তির দিনই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে। তবে বাবার পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিন দিনেও ঐ গৃহবধুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেয়া সম্ভব হয়নি। জানা গেছে ১৯ মে মঙ্গলবার বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী গৃহবধুর বাবা নান্টু মিয়া প্রতিবেদককে জানান, কয়েক বছর আগে ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী এলাকার ইউসুফ খানের ছেলে সাইদুর রহমান উজ্জলের সঙ্গে কারিমার বিবাহ দেন। বিয়ের সময় কয়েক লাখ টাকার উপটৌকনসহ ২লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি মোটর সাইকেল যৌতুক হিসেবে দেয়া হয়। পরবর্তীতে মেয়ের জামাই উজ্জ্বল মোটর সাইকেল বিক্রি করে সৌদি আরবে চলে যায়। বর্তমানে উজ্জ্বল সৌদি আরবে অবস্থান করে আরো তিন লাখ টাকা ফের আকামার জন্য যৌতুক দাবি করে। কারিমা যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে সৌদি প্রবাসী স্বামী সাইদুর রহমান উজ্জলের ইন্ধনে গত মঙ্গলবার আনুমানিক দুপুর ১২ টার দিকে স্বামীর ঘরে শ্বশুর ইউসুফ খান শ্বাশুড়ি হনুফা ও ননদ কারীমা ঘরের দরজা আটকিয়ে ঐ গৃহবধু কারিমা (২৫) কে পাশবিক নির্যাতন ও কুপিয়ে জখম করে এবং একমাত্র আড়াই বছরের শিশু কন্যা সন্তান আটকে রেখে তাকে তপ্ত রোদে বাড়ির সামনে রাস্তায় ফেলে রাখে । পরে প্রতিবেশী বখতিয়ার বিষয়টি ঐ গৃহবধুর বাবা নান্টু মিয়াকে জানান। নান্টু মিয়া মেয়ে কে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে তাঁকে ও মারধরের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবুল মোল্লার সহায়তায় মেয়ে কারিমা কে ও নাতনিকে উদ্ধার করে ঐ দিন বরগুনা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে মেয়েকে সুস্থ করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঐ নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বাবা নান্টু মিয়া। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কারিমা কান্না জড়িত কন্ঠে প্রতিবেদককে বলেন, সৌদি প্রবাসী স্বামী উজ্জ্বল সম্প্রতি আকামার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে। আমার বাবা আমাকে মানসিক ও বাড়ির লোকজন দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে। ঘটনার দিন আমার শ্বশুর -শ্বাশুরী ও ননদ আমাকে ঘরের দরজা আটকিয়ে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। আমি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তাদের কাছে একটু পানি চাই। তারা তাও দেয়নি। হাঁস মুরগির জন্য ভাত রাখে কিন্তু আমাকে খেতে দেয় না। রান্নার সময় লুকিয়েআমি চুরি করে পাকে বসানো আক ভাত খাই । আমাকে ওরা মেরেই ফেলতো । স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবুল মোল্লার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে মুঠোফোন জানান, মেয়েটির বাবা নান্টু বিষয়টি আমাকে জানালে আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে এ গৃহবধু কে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি ।