মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২৬

তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন,থোক বরাদ্দ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৫-১৮ ১৯:২৪:২৮
ছবি: সংগৃহীত।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ উন্নয়ন বাজেট চূড়ান্ত করা হয়।
সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নকে সামনে রেখেই এবারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে।
সরকারি হিসাবে, অনুমোদিত উন্নয়ন বাজেটের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন যোগ হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।
তবে এবারের উন্নয়ন বাজেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে বিপুল পরিমাণ থোক বরাদ্দ। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রকল্পভিত্তিক সরাসরি বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এত বড় অঙ্কের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা। শিক্ষা খাতে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে শীর্ষে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় পরিবার কার্ড কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া মসজিদ ও উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনায় আনা হবে।
তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। ফলে নতুন অর্থবছরে আরও বড় বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

কী-ওয়ার্ড:উন্নয়ন বাজেট,থোক বরাদ্দ,এডিপি পরিকল্পনা


এ জাতীয় আরো খবর