দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে মতবিরোধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে নীরব কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ–এ অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন জেডি ভ্যান্স। বৈঠকে তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি না হলেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলমান আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার ওপর, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান আলোচনায় ধাপে ধাপে সমাধানের কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে। শুরুতেই জটিল ইস্যু এড়িয়ে তুলনামূলক সহজ বিষয়গুলোতে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো পরবর্তী ধাপের জন্য রেখে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো দ্রুত অগ্রগতির জন্য দুই পক্ষের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের সময় এখনো নির্ধারিত না হলেও পর্দার আড়ালে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে যেতে আগ্রহী উভয় পক্ষ। এতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কী-ওয়ার্ড:ইরান যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা,হরমুজ প্রণালি,মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতি