বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টিতে আম,ধানের ক্ষতির শংকা

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৪-০৭ ১৯:১০:৫৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি। মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) সকাল থেকে রোদজ্জল থাকার পর বিকাল  ৩টার পর থেকে  মেঘডাকা শুরু হয়। কালো হয়ে ওঠে আকাশ। বিকাল ৪টার পর থেকেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। এরপরই প্রথমে হালকা  শিল পড়তে শুরু করে। সোয়া ৪টা নাগাদ মাঝারি শিলাবৃষ্টি শুরু হয় যা ক্রমান্বয়ে কোথাও কোথাও  মাঝারি বৃষ্টির সাথে কয়েক মিনিটের ভারী শিলাবৃষ্টিতে রুপ নেয়। শিল পড়ে সাদা চাদও হয়ে যায়  মাটি। সাড়ে ৪টার পর শিলাবৃষ্টি কমতে থাকে এবং পৌনে ৫টা নাগাদ  বৃষ্টি ও সাথে শিলপড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়। এলাকা ভেদে জেলায় প্রায় ১৫ থেকে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত  হালকা থেকে ভারী শিল পড়েছে।
এদিকে শিলাবৃষ্টির পর জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম এবং মাঠে শিষ ফুটতে থাকা বোরো-ইরি ধান এবং  জমিতে থাকা অল্প গম,বুট,যব.মসুর,খেসারীর মত রবিশষ্য নিয়ে ক্ষতির শংকা করছেন কৃষকরা। শিলাবৃষ্টির সময়ই ঝরে গেছে অনেক আমের গুটি।  গাছের নীচে বিছিয়ে  আছে গুটিগুলো। আনেক গুটি ফেটে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন,মাঠ থেকে পুরো খবর আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও করণীয় বলা যাবে। সমগ্র জেলাজুড়ে পাঁচ উপজেলাতেই শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বেশি হয়েছে শিবগঞ্জ এবং কম হয়েছে ভোলাহাট উপজেলায়। সদরের চরাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি তেমন হয় নি।  বিছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি শিল পড়ায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না। তবে মাঠ থেকে রিপোর্ট আসলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে আমে কিছু ক্ষতি হতে পারে। যে সব গমে পানি পড়েছে সেগুলো বীজের জন্য রাখা যাবে না। তিনি  আরও বলেন, তবে শুধু বৃষ্টি সকল ফসলের জন্য উপকারী হবে।  
সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, আম ও ধানে দ্রুত ছত্রাকনাশক দিয়ে ক্ষতি কমানো যায়। তবে তা সবস্থানে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে।  আমে কিছু ক্ষতি হবে বলে তিনি স্বীকার করেন।
সদরের বিদিরপুর গ্রামের আমচাষী বিষু মিয়া বলেন, এবার আমের গুটি মুকুলের তুলনায় কম। এর উপরে শিলাবৃষ্টিতে গুটি আমের ক্ষতি হবে। কয়েকদিনে  ঝরে যাবে বেশিরভাগ আঘাতপ্রাপ্ত আম। আমে দাগ হবে। ফলন কমবে। সদরের রামকৃষ্টপুর গ্রামের আমচাসী মন্টু  হাজী বলেন, আমের গুটি ছোট থাকায় ক্ষতি কিছু কম হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,জেলায় ৪৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আম উৎপাদন এলাকা হল ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর। গম চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে যার ৮০ শতাংশ  কাটা সম্পন্ন হয়েছে। 

 


এ জাতীয় আরো খবর