ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের রপ্তানি কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ফিনান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই তার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিকল্পগুলোর একটি। তিনি বিষয়টিকে লাতিন আমেরিকার ভেনেজুয়েলা-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতির সঙ্গে তুলনা করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হতে পারে, আবার নাও হতে পারে—তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দ্বীপটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ থেকে বছরে বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়, যার বড় অংশ যায় এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে চীনে।
আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুদকারী দেশ। এর তেলভাণ্ডারের পরিমাণ বৈশ্বিক মোট মজুদের উল্লেখযোগ্য অংশ, যা দেশটির অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের জ্বালানি খাতে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
কী-ওয়ার্ডস:ট্রাম্প ইরান তেল,খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ,মধ্যপ্রাচ্য জ্বালানি উত্তেজনা