যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে খুলনা জুড়ে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ভোর থেকেই নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ ঈদ মোবারক লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হয়।
বৃষ্টিপাতের কারণে সার্কিট হাউজ মাঠে নির্ধারিত প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সকাল ৮টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদ-এ প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। একই স্থানে সকাল ৯টা ও ১০টায় আরও দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান জামাতে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ ও বয়রা মডেল মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর খালিশপুর, টুটপাড়া, বসুপাড়া, সোনাডাঙ্গা, রূপসা, দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মসজিদে ঈদের জামাত আদায় করেন মুসল্লিরা। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ৩১টি ওয়ার্ডেও পৃথকভাবে জামাতের ব্যবস্থা করা হয়।
ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, আশ্রয়কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও ঈদ সংখ্যা প্রকাশ করে।
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মাঠের পরিবর্তে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মুফতি আব্দুল কুদ্দুস। জামাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা নগরজুড়ে উৎসবের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
কী-ওয়ার্ডস: খুলনায় ঈদ, টাউন জামে মসজিদ, ঈদ জামাত খুলনা