সবাই ভাবে আমি ঠিক আছি-
হাসি মুখে কথা বলি,
সময়মতো উত্তর দেই,
ভিড়ের মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে রাখি নিখুঁতভাবে।
কেউ দেখে না-
রাতের গভীরে আমি কতবার ভেঙে পড়ি,
কত কথা বুকের ভেতর আটকে থাকে
কোনো শব্দ হয়ে বের হতে পারে না।
আমার দুঃখটা খুব সাধারণ না,
আবার খুব আলাদা কিছুই না-
এটা সেই ধরনের কষ্ট,
যা বোঝাতে গেলে মানুষ বলে,
এইসব তো সবারই থাকে।
তাই আর বলি না কিছু,
চুপ করে থাকি-
নিজের ভেতর একটা ছোট অন্ধকার ঘর বানিয়ে
সেখানে জমা রাখি সব অনুভূতি।
বন্ধুরা জিজ্ঞেস করে, কেমন আছো?
আমি বলি, ভালো-
এই একটা শব্দের ভেতর
কত না বলা গল্প লুকিয়ে থাকে
তারা কি কখনো টের পায়?
অনেক সময় ইচ্ছে করে-
কেউ একজন এসে বলুক,
তুই ঠিক নেই, আমি বুঝতে পারছি-
বল, কী হয়েছে?
কিন্তু সেই মানুষটা আসে না,
অথবা আমি চিনতে পারি না তাকে।
আমি জানি,
এই পৃথিবীতে কেউই পুরোপুরি একা না-
তবু কিছু দুঃখ থাকে,
যেগুলো একাই বয়ে নিয়ে যেতে হয়।
আমার ভেতরে প্রতিদিন
একটা অদৃশ্য যুদ্ধ চলে-
হাসির সঙ্গে কান্নার,
চাওয়ার সঙ্গে না পাওয়ার।
তবু বেঁচে থাকি-
কারণ বেঁচে থাকাটাই এখন
সবচেয়ে বড় অভ্যাস হয়ে গেছে।
আমার দুঃখ কেউ বোঝে না-
হয়তো বোঝার মতো ভাষা নেই,
অথবা আমি কখনো শেখাইনি
কীভাবে আমাকে পড়তে হয়।
তাই প্রতিদিন
নিজেকেই বুঝি,
নিজেকেই সান্ত্বনা দেই-
এভাবেই ধীরে ধীরে
নিজের ভেতরেই বেঁচে থাকি।