পৃথিবীর কোনো প্রান্তে
মেয়ে সন্তানহলে দিত জীবন্ত কবর।
যে কোনো বয়সী-বিধবা
চিতার আগুনে হতো সারা,
যে ক্ষণে সন্তান হারাত বাবা
সামাজিক কঠোর নিয়মে
সন্তানের স্নেহ মমতা
শত প্রয়োজনকে ছিন্ন করে সমাজপতিদের সিদ্ধান্তে
মাকে দিত চিতায় তুলে।
হায় রে জননী, প্রেয়সী, ভগ্নী, কন্যা, কোথায় তোমার ঠিকানা
জনকের কন্যা তুমি
রামের ঘরণী
লব, কুশের মাতা
তোমার নিজস্ব অস্তিত্বের
নেই কি কোনো ঠিকানা।
তুমি নিবেদিতা
প্রীতিলতা, বেগম রোকেয়া, মাদার তেরেসা-
শ্রীমতি ইন্দিরা, শেখ হাসিনা, বেগম খালেদা জিয়া।
পৃথিবীর সমস্ত কিছু
ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা।
কোথাও কলেমা পড়ে
আবার অগ্নি নারায়ণ সাক্ষী করে কিংবা
গির্জায় ফুলের তোড়া বিনিময় করে
নর-নারীর হয় ঘর বাধা।
প্রথম বাসর মিলনে
যাত্রা শুরু জীবনের,
সময়ের সিঁড়ি বেয়ে
নব-জাতক আসে পৃথিবীতে
চিৎকার করে অধিকার চায়
আদর, মমতা, ভালোবাসায়
ভরিয়ে দেয় বাবা-মা।
পূর্ণিমার চাঁদ সম-আলো করে
ঘর ভরে রাখে
আঙ্গিনা থেকে মহল্লায়
গ্রাম থেকে দেশ-দেশান্তরে
হয়ে উঠে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ।
হিসাব কি করেছে সমাজ
মাতৃদেবীর কী অবদান
প্রতিষ্ঠিত হোক আজ
নারী-পুরুষের সম-অধিকার।