শুক্রবার, মার্চ ৬, ২০২৬

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোটে এগিয়ে ‘হ্যাঁ’, বড় সাংবিধানিক পরিবর্তনের আভাস

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০২-১২ ২০:৪৮:১৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-সংক্রান্ত গণভোটে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই জনসমর্থন বেশি দেখা যাচ্ছে। এতে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কারের পথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট আয়োজন করা হয়।
ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ১০৬টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি। চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে সারাদেশের পূর্ণাঙ্গ তথ্য একত্রিত করা হচ্ছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চূড়ান্তভাবে জয়ী হলে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হবে। প্রস্তাবিত সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন; নতুন বিধানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য নিয়োগের ক্ষমতা পাবেন। এ বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসবে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও নতুন প্রস্তাবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে।
গণভোটে অনুমোদন মিললে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন হবে।
প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন এবং একই ব্যক্তি একসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান হতে পারবেন না।
সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা বাড়াতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্য সব বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এছাড়া সংসদের ডেপুটি স্পিকার বাধ্যতামূলকভাবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচনের বিধান, বিচার বিভাগীয় সংস্কার, জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন গঠনের পদ্ধতি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারবেন না।

কী-ওয়ার্ডস: জুলাই জাতীয় সনদ, গণভোট ফলাফল, সাংবিধানিক সংস্কার


এ জাতীয় আরো খবর