যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজা উপত্যকায় সহিংসতা থামেনি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য ও উদ্ধারকারী সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
গাজার দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উত্তরের কয়েকটি আবাসিক এলাকায় বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তির আশায় ঘর থেকে বের হলেও হঠাৎ হামলায় পরিস্থিতি আবার আতঙ্কে পরিণত হয়।
এরই মধ্যে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানিয়েছে, বুধবার রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গুরুতর আহত ও রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার যে কার্যক্রম নির্ধারিত ছিল, তা হঠাৎ করে বাতিল করা হয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবার বাইরে থাকা বহু আহতের জীবন নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পিআরসিএস-এর এক মুখপাত্র বলেন, সীমান্ত দিয়ে রোগী স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলো চরম চাপের মুখে পড়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানির অভাবে অনেক আহতকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেরিকো শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় এক তরুণ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো সতর্কতা ছাড়াই অভিযান চালানো হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৮০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৫। নিহত ও আহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামলায় আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে আটক করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও গাজা ও পশ্চিম তীরজুড়ে প্রাণহানি অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, কার্যকর যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার নিরাপদ পথ নিশ্চিত না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা