চীনের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা যুক্তরাজ্যের জন্য বোকামি হবে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) চীনের সাংহাইয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অস্থির ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।
চীন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্টারমার বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ঘটনাপ্রবাহ এখন আর দূরের বিষয় নয়—এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রতিটি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে। তাই বৈশ্বিক অঙ্গনে যুক্ত থাকা যুক্তরাজ্যের জন্য অপরিহার্য। উল্লেখ্য, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে ব্যবসা করাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, চীন সফরের আগে যুক্তরাজ্য ট্রাম্পের টিমের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সমন্বয় বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প নিজেও আগামী এপ্রিল মাসে চীন সফরে যেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং সংলাপ ও সম্পৃক্ততাই স্থিতিশীলতার পথ।
এদিকে, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিদিস। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে সিজিটিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ব যখন বিভক্তির ঝুঁকিতে, তখন এই ধরনের সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পিসারিদিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা সাম্প্রতিক বার্তা ও নীতিগত অবস্থান তাকে উদ্বিগ্ন করছে। তার মতে, বিশ্ব ধীরে ধীরে তিনটি পরাশক্তির প্রভাববলয়ে ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক চীন সফরকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। আট বছরের মধ্যে এটিই কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। পাশাপাশি লন্ডনে নতুন চীনা দূতাবাস নির্মাণের অনুমোদনকেও যুক্তরাজ্য–চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ।
কীওয়ার্ডস:চীন–যুক্তরাজ্য সম্পর্ক,কিয়ার স্টারমার,বৈশ্বিক কূটনীতি