শুক্রবার, মে ১, ২০২৬

‘বিএনপির জামায়াতের মত কোন হিন্দু শাখা নেই’-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের এমপি প্রার্থী হারুনুর রশীদ

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০১-১৬ ২০:৩১:৩০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের বিএনপি প্রাথী ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ বলেছেন, বিএনপির জামায়াতের মত কোন হিন্দু শাখা নেই। সকল ধর্মাবলম্বীরাই বিএনপি করতে পারেন এবং অনেকেই বিএনপির  রাজনীতিতে যুক্ত। দলে ধর্ম নিয়ে কোন ভেদাভেদ নেই। দেশেও শিক্ষা,কর্মসংস্থান, ব্যবসা সহ সকল ক্ষেত্রে ধর্মের কারনে কোন ভেদাভেদ নেই, বৈষম্য নেই। বহু হিন্দু  সকল ধরণের সরকারি চাকুরী করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত রয়েছে  সকল ধর্মের অনেক শিক্ষার্থী। যোগত্যাই এসব ক্ষেত্রে বড় কথা।
শুক্রবার(১৬জানুয়ারী) বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পাঠানপাড়া মহল্লায় দলীয় কার্যালয়ে সদর উপজেলার হিন্দু,সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অনান্য জাতিগোষ্ঠীদের সাথে মত বিনিময় সভায়  বিএনপির  অন্যতম কেন্দ্রীয়  নেতা হারুন এসব কথা বলেন। তিনি অন্য ধর্মাবলম্বীদে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহব্বান জানিয়েয়ে বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদ ছাড়াই একই রকম  নাগরিক সূযোগ সুবিধা ভারতে নেই। আপনারা ভারত গেলে তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকতে হবে।
হারুন বলেন, ধর্ম কোন দলীয় বিষয় নয়। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি হবে কেন ? মুক্তিযুদ্ধ,স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষ নিয়েও রাজনীতির কিছু নেই। এদেশে হিন্দুরা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি ছাড়া   জামায়াতকে ভোট দিয়েছে এমন শোনা যায় নি। হিন্দুদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু ভোট  উপলক্ষে আপনাদের ডাকা হয় নি। বিগত ৫০ বছরে আপনাদের নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। ভুল বোঝান হয়েছে।
হারুন আরও বলেন, ধর্ম যার  ধর্মীয় উৎসবও তাঁর। এক ধর্মের অনুসারীরা অন্য ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন না। অন্য ধর্মের উপাসনালয়ে যেতে পারেন না। যদিও আপনারা পুজার সময় দাওযাৎ দেন। অনেকই  সে দাওয়াতে যান। মুসলমানদের মসজিদ তো পাহারা দিতে হয় না। তবে হিন্দুরের মন্দির কেন পাহারা দিতে হবে?  আমরা সহায়তা দিব  মন্দিরের নিরাপত্তা আধুনিক করতে। কোন মুসলমান যদি মন্দির আক্রমান করে  তবে তাঁর কঠিন শাস্তি হবে। নির্বাচন নিয়েও  আপনাদেও শংকার কারণ নেই। আমারা রয়েছি। নিরাপত্তা  দিব।
উত্তরবঙ্গ বৈষ্ণব সংঘের সভাপতি শ্রীল শ্যাম কিশোর দাস গোস্বামীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে,সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম,হারুনুর রশীদের ছেলে রুবায়েত ইবনে হারুন রাফি,উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম ও খ্রীষ্টান দর্মাবলম্বীদের নেতা হিংগু মুর্মু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নেতা কল্পনা মুর্মু, নির্মল সরেন, কর্নেলিউস মুর্মু, হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ নেতা  বলরাম পাল, পুজা উদযাপন পরিষদ নেতা অজিত রায়, পুজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতা  তরুন কুমার সাহা, মৎসজীবী নেতা  ধর্ম হলদার, হরিজন নেতা রাজন হরিজন প্রমুখ তাঁদের বক্তব্যে নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন ধর্ম,সম্প্রদায়ের প্রায় দেড় সহস্ত্র নারী পুরুষ  উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর